উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে তেল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে ৫ শতাংশ বেড়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৩ ডলারে উঠেছে।
তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে শেয়ার ও বন্ডবাজারেও বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে। জ্বালানির মূল্য বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বাজারের অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে সরকারি বন্ডেও। যুক্তরাজ্যের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদহার ছয় বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৫ দশমিক ৫১৫ শতাংশে উঠেছে, যা ২০০৭ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। ৩০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদহারও বেড়ে ৬ দশমিক ০১১৭ শতাংশ হয়েছে।
যুক্তরাজ্যে সরকারি ঋণের ব্যয় বাড়তে থাকায় আগামী ২৮ অক্টোবর দেশটির প্রথম বাজেট উপস্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া অর্থমন্ত্রী জন হিলির ওপরও চাপ বাড়ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ঘিরে নতুন উদ্বেগ তৈরি হওয়ার পর বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়ে। দ্য আটলান্টিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছে হোয়াইট হাউস। তবে সম্ভাব্য হামলার ধরন, লক্ষ্যবস্তু ও অভিযান হবে কি না—এসব বিষয়ে এখনো আলোচনা চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বৈশ্বিক তেল সরবরাহে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল কমেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে।
বুধবার কাতারের উত্তর উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে প্রজেক্টাইল হামলার ঘটনাও ঘটেছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, ওই ঘটনায় হতাহতের ঘটনা হয়েছে।
অন্যদিকে মেক্সিকো উপসাগরীয় এলাকায় তেল উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কাও জ্বালানির দাম বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। আটলান্টিক মৌসুমের প্রথম হারিকেনে পরিণত হওয়া ক্রান্তীয় ঝড় ইসাইয়াস ওই অঞ্চলের দিকে এগিয়ে আসছে। ঝড়ের কারণে শেল ও শেভরন উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করার কথা জানিয়েছে। শুক্রবার বা শনিবার ঝড়টি স্থলভাগে আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।
জ্বালানি খরচ বাড়ার আশঙ্কায় শিপিং কোম্পানি মার্স্কও অতিরিক্ত জ্বালানি সারচার্জ বাড়ানোর কথা জানিয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে পরিবহন ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তেলের দাম বাড়ার কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগও তীব্র হয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদের হার বাড়াতে হতে পারে—এমন প্রত্যাশা বাজারে জোরালো হয়েছে।
ইউরোপের বন্ডবাজারেও দরপতন দেখা গেছে। ফ্রান্সের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদহার ছয় বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৪ দশমিক ৯৩১ শতাংশ হয়েছে। জার্মানির সমপর্যায়ের বন্ডের সুদহার দুই বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৩ দশমিক ৫০৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহারও পাঁচ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ৫ দশমিক ৩৩১ শতাংশ হয়েছে।
বিশ্বের শেয়ারবাজারেও এর প্রভাব পড়েছে। জাপানের নিক্কেই সূচক ১ দশমিক ৪ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। ইউরোপের স্টক্স ইউরোপ ৬০০ সূচক ০ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। দিনের শুরুতে যুক্তরাজ্যের এফটিএসই ১০০ সূচকও শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে যায়।