উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলায় গ্রেপ্তার আট আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার শুনানি শেষে প্রত্যেক আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলাটি শাহ আলী থানায় দায়ের করা হয়েছে।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন মো. শাহাদাত হোসেন, কাজী মকবুল হোসেন, মো. শাহ আলম, মো. আতিকুর রহমান, মো. কামরুল ইসলাম, মো. নুর আলম, মো. রফিকুল ইসলাম জিন্নাহ ওরফে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং মো. সাজ্জাদ হোসেন মিশু। প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক লুৎফুর রহমান আদালতের আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আতোয়ার রহমান গত ৪ অক্টোবর আট আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিলেন। পরে আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানির জন্য ৮ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করেন। শুনানির আগে তাদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
আদালতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত প্রত্যেকের তিন দিনের রিমান্ড অনুমোদন করেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে একদল ব্যক্তি হ্যামার, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শাহ আলী থানার আওতাধীন রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে প্রবেশ করে। অভিযোগ রয়েছে, তারা প্রাচীর টপকে ভেতরে ঢুকে দায়িত্বে থাকা দুই নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার ও মো. আব্দুল হাইকে মারধর করে বেঁধে রাখে।
এরপর হামলাকারীরা হ্যামার দিয়ে প্রধান ফটক ভেঙে একটি ভেকু দিয়ে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে একটি সেমিপাকা ঘর ভেঙে ফেলা হয়। ওই ঘটনায় প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেওয়ার একটি সেমিপাকা ঘর ও আসবাবপত্র ভাঙচুরে প্রায় ৪ লাখ টাকা ক্ষতি হয়। ক্লিনিক ইনচার্জ, চিকিৎসক ও ডেপুটি ক্লিনিক ইনচার্জের ব্যবহৃত আরেকটি সেমিপাকা ভবন, আসবাবপত্র ও চিকিৎসা সরঞ্জাম নষ্ট করায় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন শাখায় ভাঙচুরে আরও প্রায় ২০ লাখ এবং আল্ট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি কক্ষের দরজা-জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতির কথা মামলায় বলা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন ওষুধ ও সামগ্রীসহ দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, দুটি প্রিন্টার, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি ও তিনটি স্টিলের আলমারি নিয়ে যায়। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা।
ভাঙচুর ও লুটপাট মিলিয়ে পাঁচটি ঘর এবং বিভিন্ন স্থাপনার দরজা-জানালার ক্ষতিসহ মোট প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় নৈশপ্রহরীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি দেয় এবং ঘটনাস্থলে একটি দোকানদার সমবায় সমিতির ব্যানার ও সাইনবোর্ড লাগিয়ে যায়।
ঘটনার পর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় মো. হানিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। রিমান্ডে নেওয়া আট আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তাদের ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যদের বিষয়ে তথ্য জানার চেষ্টা করবে পুলিশ।