উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে ৪৫০ কোটি মার্কিন ডলারের নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করছে বাংলাদেশ সরকার। তিন বছর মেয়াদি এ ঋণ কর্মসূচির চুক্তি আগামী ডিসেম্বর মাসে হতে পারে বলে আশা করছে অর্থ মন্ত্রণালয়। বর্তমানে ঋণের শর্ত ও প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সংস্কার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে জানা গেছে, নতুন ঋণ কর্মসূচির শর্তগুলোর মধ্যে ব্যাংক ও রাজস্ব খাতের সংস্কার, বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করা এবং সরকারি ভর্তুকি কমানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। এসব বিষয়ে সমঝোতা হলে ঋণচুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
আগামী সোমবার থেকে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে শুরু হতে যাওয়া আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় যোগ দেবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল। সেখানে আইএমএফের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এ লক্ষ্যে অর্থ মন্ত্রণালয় প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এর আগে ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছিল আইএমএফ। ২০২২ সালের জুলাইয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এ ঋণসহায়তা চেয়ে আবেদন করেছিল। পরবর্তী সময়ে ঋণ কর্মসূচির আকার বাড়িয়ে ২০২৫ সালের জুনে ৫৫০ কোটি ডলারে উন্নীত করা হয়। ওই কর্মসূচির সাত কিস্তির মধ্যে পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ পেয়েছে ৩৬৪ কোটি ডলার।
তবে বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ঋণের শর্ত এবং সংস্কার বাস্তবায়নের জটিলতার কারণে বর্তমান সরকার পুরোনো কর্মসূচি এগিয়ে নিতে আগ্রহী হয়নি। গত এপ্রিল মাসে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন সভায় সরকার এ অবস্থান জানায়। পরে গত ৩ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ঋণ কর্মসূচির জন্য আইএমএফের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। নতুন কর্মসূচির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছিল সংস্থাটি।
নতুন ঋণের শর্তের মধ্যে বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারব্যবস্থার ওপর ছেড়ে দেওয়া, রাজস্বনীতি ও রাজস্ব আদায়ের কার্যক্রম পৃথক করা, করছাড় যৌক্তিক করা, দেউলিয়া আইন প্রণয়ন এবং সরকারি ভর্তুকি কমানোর বিষয় রয়েছে। এসব সংস্কারের কিছু শর্ত আগের ঋণ কর্মসূচিতেও ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেগুলোর সব বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন মনে করেন, ব্যাংক ও রাজস্ব খাতের সংস্কারসহ প্রয়োজনীয় পরিবর্তনগুলো জাতীয় স্বার্থেই বাস্তবায়ন করা দরকার। তাঁর মতে, এসব সংস্কার দীর্ঘদিন পিছিয়ে থাকলে নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেও প্রত্যাশিত অগ্রগতি অর্জন কঠিন হবে। আইএমএফের কর্মসূচি সংস্কার বাস্তবায়নে সময়সীমা ও চাপ তৈরি করতে পারে।
পুরোনো ঋণ কর্মসূচির শর্ত পূরণে অগ্রগতি না হওয়ার বিষয়টি নতুন আলোচনাতেও প্রভাব ফেলছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাঠামো পুনর্গঠন, করছাড় কমানো এবং জিডিপির অনুপাতে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ঘাটতি রয়েছে। একই সঙ্গে বিনিময় হার পুরোপুরি বাজারভিত্তিক করার শর্তও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। ব্যাংক খাতে কিছু সংস্কার হলেও জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি কমানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র বলছে, নতুন কর্মসূচিতে সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য তুলনামূলকভাবে বাড়তি সময় পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। আগামী নভেম্বর মাসে আইএমএফের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করতে পারে। ওই সফরে ঋণের শর্ত ও সংস্কারের বিষয়ে আরও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর চূড়ান্ত দর-কষাকষি শেষে ডিসেম্বরে চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকার নতুন ঋণ কর্মসূচি এগিয়ে নিতে চায় এবং আসন্ন বার্ষিক সভায় এ বিষয়ে অগ্রগতি অর্জনের প্রত্যাশা করছে। তবে ঋণচুক্তির চূড়ান্ত সময় নির্ভর করবে দুই পক্ষের আলোচনা, শর্তে সমঝোতা এবং সংস্কার পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার ওপর।
নতুন ঋণ কর্মসূচি বাংলাদেশের বৈদেশিক অর্থায়ন ও অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে ঋণের পরিমাণ, শর্ত এবং চুক্তি স্বাক্ষরের সময়সূচি এখনো আলোচনাধীন।