উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বিদেশে কর্মসংস্থানে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের দক্ষতা উন্নয়ন ও ভাষাশিক্ষায় সহায়তা দিতে ১ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ঋণ তহবিল চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে এ তহবিল থেকে একজন কর্মী সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ নিতে পারবেন। ঋণের সুদের হার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ এবং নির্ধারিত শর্তে পরিশোধের মেয়াদ পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন তফাদার এক পডকাস্টে জানান, তহবিলের অর্থ পাঁচটি সমান কিস্তিতে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংককে দেওয়া হবে। প্রতিটি কিস্তিতে ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকবে। এক কিস্তির অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহার হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের পর পরবর্তী কিস্তির অর্থ ছাড় করা হবে।
ঋণের প্রাথমিক মেয়াদ তিন বছর। এর মধ্যে প্রথম ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ড হিসেবে থাকবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণ পরিশোধের মেয়াদ পাঁচ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। জামানত দিতে না হলেও আবেদনকারীর দুজন গ্যারান্টর থাকতে হবে। তাঁদের একজন হবেন পরিবারের নিকটতম সদস্য এবং অন্যজন সমাজে প্রতিষ্ঠিত ও ঋণ পরিশোধে সক্ষম ব্যক্তি।
এ ঋণের আওতায় বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়া ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট দেশের ভাষা শেখা এবং কাজের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের প্রশিক্ষণ ব্যয় মেটাতে পারবেন। বিদেশে গিয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার ক্ষেত্রে টিউশন ফি এবং নির্দিষ্ট শর্তে থাকা-খাওয়ার খরচও ঋণের আওতায় আসবে। তবে বিমানের টিকিটের খরচ এ তহবিল থেকে দেওয়া হবে না।
সরকারি কিংবা বেসরকারি বৈধ মাধ্যমে কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশ যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিরা এ ঋণের আবেদন করতে পারবেন। তবে বিদেশে পড়াশোনার উদ্দেশ্যে যাওয়া শিক্ষার্থীরা এ সুবিধার আওতায় পড়বেন না।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াহিদা বেগম জানিয়েছেন, বৈধভাবে বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়া বাংলাদেশিরা ব্যাংকের অভিবাসন ঋণ নীতিমালা অনুযায়ী ঋণ পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনের জন্য বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা, প্রয়োজনীয় সার্টিফিকেট অব এলিজিবিলিটি, ভাষা বা দক্ষতা প্রশিক্ষণের যোগ্যতার সনদ এবং প্রশিক্ষণ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অফার লেটার প্রয়োজন হবে। অফার লেটারে টিউশন ফি, প্রশিক্ষণের মেয়াদ এবং থাকা-খাওয়ার ব্যয় কে বহন করবে, তা উল্লেখ থাকতে হবে।
আগ্রহীরা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রথমে সংশ্লিষ্ট শাখায় যাচাই করা হবে। এরপর আবেদনটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হবে। ঋণ অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট শাখায় অনুমোদনপত্র পাঠানো হবে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর ঋণ গ্রহণের সম্মতি জানাতে আবেদনকারীকে নিজে শাখায় যেতে হবে। তবে আবেদন জমা দেওয়ার জন্য সরাসরি শাখায় যাওয়ার প্রয়োজন নেই। অনলাইনে আবেদনের পর আবেদনকারী নিজের আবেদনের অগ্রগতিও দেখতে পারবেন।
প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৪ অক্টোবর পর্যন্ত এ কর্মসূচির আওতায় ৪৮১ জনকে মোট ১৩ কোটি ৩ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।
ঋণের অর্থ নির্ধারিত কাজে ব্যবহার নিশ্চিত করতে দুই স্তরের তদারকি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশালস প্রোগ্রাম বিভাগ তহবিলের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে।
বিদেশে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও ভাষাজ্ঞান অর্জনের ব্যয় অনেকের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এ ঋণ কর্মসূচির মাধ্যমে সেই ব্যয় মেটানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের বৈধ কাগজপত্র, প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা এবং ব্যাংকের নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে।