উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
তৈরি পোশাকশিল্পে প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করে দ্রুত নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক শ্রম বিধিমালা প্রণয়ন, ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন সহজ করা এবং অসৎ শ্রম আচরণ বন্ধের দাবিও তুলেছেন সংগঠনটির নেতারা।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশ ও মিছিল থেকে এসব দাবি জানানো হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহীম চৌধুরী।
সমাবেশে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহসভাপ্রধান এফ এম নুরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক হযরত বিল্লাল এবং কেন্দ্রীয় সদস্য মামুন, সাহিদা আক্তার ও আকলিমা আক্তারসহ অন্য নেতারা। এ ছাড়া আউটসোর্সিং কর্মচারীর নেতা নুরুল হক, প্রাইভেট কার ইউনিয়নের সহসভাপতি আক্কাস মিয়া এবং ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সদস্য সোহেলা রুমি সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন।
দ্রব্যমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ মজুরির দাবি
সমাবেশে শ্রমিক নেতারা বলেন, গত তিন বছরে গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে নতুন মজুরি নির্ধারণ জরুরি। তাই প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠনের কার্যক্রম শুরু করতে হবে।
তাঁদের অভিযোগ, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গঠিত তিনটি মজুরি বোর্ডে শ্রমিক বা নিরপেক্ষ প্রতিনিধিরা কার্যকরভাবে শ্রমিকদের স্বার্থ তুলে ধরতে পারেননি; বরং মালিকপক্ষের স্বার্থ প্রাধান্য পেয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে শ্রমিকদের প্রকৃত প্রতিনিধি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তাঁরা।
সংশোধিত শ্রম আইনে শিল্প খাতের শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণের সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে কমিয়ে তিন বছর করা হয়েছে বলে সমাবেশে উল্লেখ করা হয়। শ্রমিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে সরকার মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানানো হয়।
ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন সহজ করার আহ্বান
সমাবেশে শ্রমিক নেতারা বলেন, চলতি বছর শ্রম আইন সংশোধনের মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে মোট শ্রমিকের ২০ শতাংশের সম্মতির বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে অন্তত ২০ জন শ্রমিকের সম্মতিতে ইউনিয়ন নিবন্ধনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে আইন সংশোধনের পরও নিবন্ধনপ্রক্রিয়ায় নানা জটিলতা ও হয়রানি রয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। শ্রমিকসংখ্যা নির্ধারণ, প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ, নির্ধারিত ৫৫ দিনের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন না হওয়া এবং অনলাইন সার্ভারের সমস্যাকে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেন বক্তারা।
শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকার কার্যকর করতে নিবন্ধনপ্রক্রিয়া সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা। পাশাপাশি গণতান্ত্রিক শ্রম বিধিমালা প্রণয়ন এবং কর্মক্ষেত্রে অসৎ শ্রম আচরণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তোলেন।