উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সরকারি অর্থের অপচয় রোধ, আর্থিক ঝুঁকি আগেভাগে চিহ্নিত করা এবং জনসেবা সচল রাখতে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী ও স্থায়ী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে গাজীপুরের একটি হোটেলে ৮ থেকে ১০ অক্টোবর তিন দিনব্যাপী এক কর্মশালার আয়োজন করে অর্থ বিভাগের এসপিএফএমএস কর্মসূচির আওতাধীন ইন্টারনাল অডিট অ্যান্ড অডিট ফলো-আপ স্কিম। ‘সরকারি খাতে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া: স্থায়িত্ব ও করণীয়’ শীর্ষক এ আয়োজনের কথা অর্থ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সংশোধিত ‘মডেল ঝুঁকিভিত্তিক অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা সনদ ও নির্দেশিকা ২০২৬’ উন্মোচন করেন অর্থসচিব মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার। এতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিরীক্ষকদের দায়িত্ব, প্রতিবেদন তৈরির প্রক্রিয়া এবং পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করার কাঠামো তুলে ধরা হয়েছে। অনুষ্ঠানে অর্থসচিব বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষাব্যবস্থা চালু করা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, যা সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবে। এ উদ্যোগকে কার্যকর ও স্থায়ী করতে তিনি সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রশাসনিক অনুমোদন সাপেক্ষে তিন বছরে তিন ধাপে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোতে স্থায়ী নিরীক্ষা ইউনিট বা অধিদপ্তর গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট জনবল কাঠামো, নিয়োগবিধি, পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কর্মশালায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর, এলজিইডি, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নিরীক্ষা কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সীমাবদ্ধতা তুলে ধরা হয়। সংস্থাগুলো জনবল সংকট, দক্ষতার ঘাটতি, দুর্বল সমন্বয় এবং স্থায়ী সাংগঠনিক কাঠামোর অভাবের কথা জানায়। নিরীক্ষায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ৯৩টি, গণপূর্ত অধিদপ্তর ৭০টি এবং এলজিইডি ৭৮টি ব্যয়কেন্দ্রে মোট ৩০০টি পর্যবেক্ষণ চিহ্নিত করেছে। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ৪১টি ও সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ৮২টি ঝুঁকি চিহ্নিত করেছে এবং স্বাস্থ্য ও সড়ক বিভাগ ছয়টি করে প্রতিবেদন সম্পন্ন করেছে। অনুষ্ঠানে ২০২৬-২০৩১ সালের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কর্মপরিকল্পনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।