উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
পরীক্ষার ফল আশানুরূপ না হলে বা জীবনে ব্যর্থতার মুখোমুখি হলে অনেকেই ভেঙে পড়েন। মনোবিজ্ঞানে সংকট-উত্তর বিকাশ বা পোস্ট-ট্রমাটিক গ্রোথ নামে একটি ধারণা রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, জীবনের কঠিন সময় মানুষকে শুধু ভেঙে দেয় না, বরং নতুন করে গড়ে তোলে। (টেডেশি, আর. জি. এবং ক্যালহাউন, এল. জি., ১৯৯৬, জার্নাল অব ট্রমাটিক স্ট্রেস, ৯/৩)
পরাজয় মেনে না নিয়ে কোরআনের সুরা ইনশিরাহের ৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে রয়েছে স্বস্তি। এর পরপরই ৭-৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা পরিশ্রমে লেগে যাওয়ার ও রবের দিকে মনোযোগী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সুরা বাকারার ২৮৬ নম্বর আয়াত অনুযায়ী আল্লাহ সাধ্যের অতিরিক্ত কোনো বোঝা দেন না, যা কষ্টের সময় সাহস জোগায়।
সুনানে তিরমিজির ২৩৯৬ নম্বর হাদিসে মহানবী (সা.) বলেছেন, বিপদ যত মারাত্মক হবে, প্রতিদানও তত মহান হবে। তাবুক যুদ্ধে অলসতাবশত অংশ না নেওয়ায় কা’ব বিন মালিক (রা.) ও তাঁর সঙ্গীদের পঞ্চাশ দিন বয়কট করা হয়েছিল। সুরা তওবার ১১৮ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, তওবা কবুল হওয়ার পর তাঁদের জীবনের সবচেয়ে বড় খুশির দিন এসেছিল।
সহিহ বুখারির ৩২৩১ নম্বর হাদিস অনুযায়ী নবীজির জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিন ছিল তায়েফের দিন, তবুও তিনি আশা ছাড়েননি। সুরা তওবার ৪০ নম্বর আয়াতে হিজরতের সময় গুহায় আবু বকর (রা.)-কে নবীজি বলেছিলেন, দুঃখ কোরো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের সঙ্গে আছেন। ওহুদের যুদ্ধের পরের দিনই আহত সাহাবিদের নিয়ে পুনরায় বের হওয়ার ঘটনা সুরা আলে ইমরানের ১৭২ নম্বর আয়াতে উল্লেখ রয়েছে। পরাজয়ের পরদিনই উঠে দাঁড়ানোই নবীজির শিক্ষা।