উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ইসলামের ইতিহাস অতিথি সেবাকে ইমানের অংশ এবং মানবীয় মর্যাদার এক অনন্য মাপকাঠি হিসেবে স্থান দিয়েছে। সপ্তম শতাব্দীতে আরব উপদ্বীপে যে সভ্যতার সূচনা হয়েছিল, তা এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিশাল অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এই সভ্যতার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হলো মেহমানদারি বা অতিথি আপ্যায়ন, যা আত্মশুদ্ধি ও সৌহার্দ্য স্থাপনের সুমহান মাধ্যম।
মহানবী (সা.) অতিথি আপ্যায়নকে ইমান ও পরকালের বিশ্বাসের সঙ্গে জড়িয়ে দিয়ে বলেছেন যে আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী যেন মেহমানকে সম্মান করে। ইসলামে মেহমানদারির সময়সীমাও নির্ধারিত আছে যেখানে প্রথম দিন ও রাত বিশেষ হক এবং পরবর্তী দিনগুলো সদকা। নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে কষ্ট না করে যা ঘরে আছে তা-ই পরিবেশন করা আদর্শ মেজবানের লক্ষণ।
খেলাফত আমল থেকে শুরু করে ওসমানিয়া সাম্রাজ্য এবং মুঘল আমলে অতিথি আপ্যায়ন শিল্পের পর্যায়ে উন্নীত হয়েছিল। বাগদাদ, দামেস্ক ও কায়রোর মতো শহরে দারুল জিয়াফাত নামক বিশাল সরাইখানায় বিনামূল্যে খাবার ও থাকার ব্যবস্থা থাকত। সুফি সাধকদের খানকাহ ও দরগার লঙ্গরখানায় জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে যে কেউ খাবার গ্রহণ করতে পারত।
আধুনিক যান্ত্রিক জীবনযাত্রায় মানুষ আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়লেও ইসলাম শেখায় অতিথি বরকত নিয়ে আসে এবং ঘরে মেহমান আসার অর্থ রিজিক বৃদ্ধি পাওয়া। মেহমানদারি ও পারস্পরিক সম্পর্ক দৃঢ় করতে অতিথিদের জন্য কিছু আদব ও শিষ্টাচার মেনে চলা জরুরি। মেজবানের সাধ্যের প্রতি সম্মান এবং সঠিক সময়ে বিদায় নেওয়ার মাধ্যমে এই সুন্দর ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখা সম্ভব।