উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক পরিবহন পরিচালক এনামুল করিমের বিরুদ্ধে প্রায় ১০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র চেয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছে সংস্থাটি। এদিকে, অনুসন্ধানী সাংবাদিকের দাবি অনুযায়ী, দেশে-বিদেশে তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৮০০ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। তবে এই সম্পদের পরিমাণ ও অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে শিপিং এজেন্ট মেসার্স ইউনিবেঙ্গল কনটেইনার ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের হিসাবে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটিকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল। এতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ১০ কোটি ৫৬ লাখ টাকার বেশি রাজস্ব ঝুঁকিতে পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় এনামুল করিমের ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে অনুসন্ধান করছে দুদক।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ জুন দুদকের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয় থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। এতে এনামুল করিমের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চাওয়া হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক অংটি চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় রেকর্ডপত্র হাতে এসেছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিবহন বিভাগ পণ্য ও কনটেইনার পরিচালনা, জাহাজের বার্থিং এবং বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। অভিযোগ রয়েছে, ২০১৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর এ বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এনামুল করিমের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। তবে বন্দরে যোগদানের পর দীর্ঘ সময় ধরে অবৈধ লেনদেন নিয়ন্ত্রণের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তার পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এখানে পাওয়া যায়নি।
এনামুল করিমের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালেও প্রায় ১১ কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সময় একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকা ও চট্টগ্রামে মোট চারটি দুর্নীতির মামলা চলমান রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। মামলাগুলোর নম্বর, বর্তমান অবস্থা এবং আদালতের পর্যবেক্ষণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
শ্রমিক ও কর্মচারী নিয়োগে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিয়োগের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো এবং এ কাজে কয়েকজন শ্রমিকনেতার সম্পৃক্ততা ছিল। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে যাচাইযোগ্য নথি বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে পদ ধরে রাখা এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার পরিচয় দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।