উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
পাথেয় রাসুল (সা.) ছিলেন অসাধারণ প্রজ্ঞা ও বিচক্ষণতার অধিকারী। হিজরতের আগে হাজরে আসওয়াদ স্থাপন নিয়ে কোরাইশদের মধ্যকার বিরোধ অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে মেটানো এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক সন্ধি তাঁর অনন্য প্রজ্ঞার প্রমাণ বহন করে। এ জন্যই তিনি বলেছেন, প্রজ্ঞাপূর্ণ বক্তব্য ও বিচক্ষণতা হলো মুমিনের হারানো ধন। যেখানেই সে তা পাবে, সেটির সবচেয়ে বেশি হকদার হবে সে-ই। (সুনানে তিরমিজি: ২৬৮৭)
ইসলামে নেতৃত্ব একটি পবিত্র আমানত এবং গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। রাসুল (সা.) ছিলেন সামগ্রিক আধ্যাত্মিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক নেতৃত্বের অধিকারী এবং জীবনের সব ক্ষেত্রে তিনি আদর্শ। নবীজির সততা ও বিশ্বস্ততা ছিল সর্বজনস্বীকৃত এবং তাঁর পরম শত্রুও তাঁকে আল-আমিন বা বিশ্বস্ত উপাধিতে ভূষিত করেছিল। ব্যবসায়িক লেনদেন থেকে শুরু করে নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত তিনি সততা ও বিশ্বস্ততার সর্বোত্তম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।
নবীজির নেতৃত্বের অন্যান্য মৌলিক গুণের মধ্যে রয়েছে দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহি এবং স্পষ্টভাষী হওয়া। তিনি সাবলীল ও স্পষ্টভাবে কথা বলতেন ও যোগাযোগ করতেন, যাতে শ্রোতারা সহজে তাঁর উদ্দেশ্য বুঝতে পারে। আনাস (রা.) বলেন, নবীজি যখন কোনো কথা বলতেন, তখন তিনি তা প্রয়োজনবোধে তিনবার পুনরাবৃত্তি করতেন, যাতে তাঁর কথাটি সঠিকভাবে বোঝা যায়। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৫)
ইনসাফ ছিল রাসুলের নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান ভিত্তি এবং তিনি সামাজিক অবস্থান, বংশীয় মর্যাদা বা আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে কখনো কোনো বৈষম্য করেননি। ন্যায়বিচারের স্বার্থে তিনি আপন পরিবারের ওপরও আইন প্রয়োগের ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, যদি নবী-কন্যা ফাতিমাও চুরি করত, তবে আমি অবশ্যই তার হাত কেটে দিতাম। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৭৮৭)
সহানুভূতি ও দয়া ছিল নবীজির নেতৃত্বের প্রধানতম ভূষণ এবং তিনি সাহাবিদের ক্ষুদ্রতম দুঃখ বা কষ্টও অনুভব করতেন। পেশাদার জীবনে একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে কাজ করা ছিল তাঁর নীতি। আবু হোরাইরা (রা.) বলেন, আমি নবীজির চেয়ে অন্য কাউকে তাঁর সঙ্গীদের সঙ্গে বেশি পরামর্শ করতে দেখিনি। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ১৭১৪)
পেশাগত ক্ষেত্রে যেকোনো কাজের সফলতা নির্ভর করে সঠিক ব্যক্তিকে উপযোগী দায়িত্ব দেওয়ার ওপর এবং তিনি অযোগ্য লোকের হাতে দায়িত্ব অর্পণ করা নিয়ে সতর্ক করেছেন। নবীজির দৃষ্টিতে নেতৃত্ব হলো মানুষের সেবা করার সুবর্ণ সুযোগ, যেখানে নেতা নিজেকে প্রভু না ভেবে সেবক মনে করেন। খন্দকের যুদ্ধের পরিখা খননে তিনি সাহাবিদের সঙ্গে সমানভাবে মাটি কেটেছেন এবং পাথর বহন করে জীবন্ত আদর্শ স্থাপন করেছেন।
কারও ভুলত্রুটি জনসমক্ষে লজ্জিত না করে মার্জিত ও পরোক্ষভাবে সংশোধন করার এক অনন্য শিক্ষা তিনি দিয়েছেন। অধীনস্থদের ভাইয়ের মর্যাদা দিয়ে তাদের সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে ও কষ্টের খেয়াল রাখতে হবে। আনাস (রা.) বলেন, আমি ১০ বছর নবীজির খেদমত করেছি, কিন্তু তিনি কখনো আমার প্রতি উফ শব্দটিও করেননি। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬০৩৮)