উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম। চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে কিসমত-জাফরাবাদ আবাসিক প্লট প্রকল্পে মাটি ভরাটের কাজে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অভিযোগে ২০ জনের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটির বিভিন্ন দপ্তরে অনিয়ম নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগমের ভাষ্য, দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার কিসমত-জাফরাবাদ আবাসিক প্লট উন্নয়ন প্রকল্পে মাটি ভরাটের কাজ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। প্রকল্পটির কাজ ও অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে পেরে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগের ঘটনা হলেও তিনি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন বলে জানিয়েছেন।
দুদকের তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ২০১৫ সালের ৯ জুলাই কিসমত-জাফরাবাদ মৌজায় আবাসিক প্লট উন্নয়ন প্রকল্পটি অনুমোদন করে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪২ কোটি ৩৭ লাখ ২১ হাজার টাকা। মাটি ভরাট, আরসিসি সড়ক, ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণের জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় অনুমোদন করা হয় ৭ কোটি ৫৬ লাখ ৩২ হাজার ৭৯৮ টাকা।
নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মাটি ভরাটের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৮৭ হাজার ৯৩ দশমিক ১৬ ঘনমিটার মাটির বিপরীতে ১ কোটি ৯৯ লাখ ৬৬ হাজার ১৬ টাকার বিল দাখিল করে। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটিকে পরিশোধ করা হয় ১ কোটি ৩৭ লাখ ৭৬ হাজার ৬১৪ টাকা। তবে প্রকৃত কাজের পরিমাণ ও অর্থ পরিশোধের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
দুদকের তদন্তে প্রাথমিকভাবে মাটি ভরাটের কাজ না করে পরস্পর যোগসাজশে সরকারি ৪৮ লাখ ৭৭ হাজার ৮৯৪ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে আসে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ রয়েছে। মামলার তদন্ত এখনো চলমান। গত ২৫ আগস্ট তদন্ত কর্মকর্তা আবুল হাসান প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরু করার বিষয়ে দুদকের সংশ্লিষ্ট উপপরিচালকের কাছে মতামত পাঠান। তাঁর মতামত অনুযায়ী, চলমান মামলার কারণে প্রকল্পের কাজ পুনরায় শুরু করতে আইনগত বাধা নেই।
অভিযোগ রয়েছে, মাটি ভরাটের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন না করেই বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছিল। এ ঘটনার জেরে প্রকল্পটি দীর্ঘ সময় ধরে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে, দুদকের মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা অবস্থায় উপবিভাগীয় প্রকৌশলী অলিউর ইসলামকে নির্বাহী প্রকৌশলীর চলতি দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে , এরপরও অভিযুক্তরা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। এ নিয়ে সংস্থার ভেতরে অসন্তোষের কথা জানা গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বর্তমান আইনি অবস্থা এবং দায়িত্ব প্রদানের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয় থেকে সম্প্রতি চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই ঘটনায় দুদকের তদন্ত ও মামলা চলমান থাকায় প্রশাসনিক তদন্তের ফলাফলও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অপরাধবিষয়ক আইনজীবী সৈয়দ আহম্মেদ গাজী বলেছেন, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্তদের ক্ষেত্রে পদোন্নতি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী বিবেচনা করতে হয়।
কিসমত-জাফরাবাদ প্রকল্পের অর্থ ব্যয়, কাজের বাস্তব অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের ভূমিকা যাচাই করে দায় নির্ধারণ করাই এখন তদন্তের মূল বিষয়।