উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বিয়ের মাত্র কয়েক দিন আগে কোনো পাত্রী যদি জানতে পারেন যে তাঁর হবু বর এক দীর্ঘমেয়াদি ছোঁয়াচে ব্যাধির চিকিৎসা নিচ্ছেন, তবে তাঁর মনে কী প্রতিক্রিয়া হতে পারে? হতে পারে, চিকিৎসক আশ্বস্ত করেছেন যে নিয়মিত চিকিৎসায় থাকায় ভাইরাসের সংক্রমণ ঝুঁকি প্রায় শূন্যের কাছাকাছি। পাত্রের দৃষ্টিতে এটি তাঁর সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিষয়ক গোপনীয় তথ্য হলেও, সম্মতি দেওয়ার আগে এটি জানার অধিকার কি ওই নারীর ছিল না?
পবিত্র কোরআনে বিবাহবন্ধনকে একটি সুদৃঢ় অঙ্গীকার হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে এবং মহানবী (সা.) প্রতারণাকারীদের ত্যাগের কথা বলেছেন। বৈবাহিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দৈহিক বা মানসিক ত্রুটি বা ব্যাধি গোপন রেখে নিজেকে উপস্থাপন করাও এই প্রতারণার শামিল। যেসব গুরুতর রোগ বৈবাহিক জীবনকে ব্যাহত করে কিংবা সংক্রামক ক্ষতির সৃষ্টি করে, তা প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক এবং তা গোপন করা স্পষ্টত প্রতারণার অন্তর্ভুক্ত।
তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নির্ধারণে রোগ কতটা সক্রিয়, অপর পক্ষের শরীরে সংক্রামক ঝুঁকি আছে কি না, তা বিচার করতে হবে। প্রজনন বা যৌথ জীবনের স্বাভাবিক গৃহস্থালি দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি, ভবিষ্যৎ সন্তানের ঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যয়বহুল চিকিৎসা বা পরিচর্যার প্রয়োজনীয়তার মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হবে। এই পাঁচ প্রশ্নের যেকোনো একটির উত্তর ইতিবাচক হলে সেই তথ্য হবু সঙ্গীর কাছে প্রকাশ করা নৈতিক ও আইনগতভাবে আবশিক হয়ে দাঁড়ায়।
বিয়ের আগে সরকারি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালেই সব ধরনের দীর্ঘমেয়াদি বা মানসিক ব্যাধি থেকে মুক্ত, তা নিশ্চিত হয় না। সনদের বাইরে থাকা যেকোনো গুরুতর স্বাস্থ্যগত তথ্য নিজ দায়িত্বে হবু সঙ্গীর কাছে প্রকাশ করা নৈতিক বাধ্যবাধকতা। তবে তথ্য প্রকাশের একটি সুনির্দিষ্ট আদব রয়েছে, যা হওয়া উচিত বিয়ের চুক্তি বা আকদের পূর্বে এবং সরাসরি হবু সঙ্গীর কাছে।