উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ে পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশের সময়সীমা নির্ধারণে এক সপ্তাহের দীর্ঘ আলোচনার পর কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তঃসরকার প্যানেল (আইপিসিসি)। শুক্রবার ফ্রান্সের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি বেনোয়া ফারাকো এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ইউরোপের অনেক দেশ ২০২৮ সালের মধ্যে পরবর্তী প্রতিবেদনটি প্রকাশের পক্ষে থাকলেও সৌদি আরব, ভারত ও চীনসহ কয়েকটি দেশ এটি ২০২৯ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলো বলছে, এতে ফলাফল পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা গ্রহণে তারা আরও সময় পাবে।
মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের জলবায়ুবিষয়ক দূত টিনা স্টেগ এই বিলম্বের তীব্র সমালোচনা করে একে অত্যন্ত নিন্দনীয় ও লজ্জাজনক প্রচেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্যের প্রয়োজনীয়তা থাকা সত্ত্বেও প্রতিটি প্রস্তাব বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
প্রায় ৩৫টি দেশের মন্ত্রীরা এক চিঠিতে স্বাক্ষর করে বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্যের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। চিঠিতে বলা হয়, জাতিসংঘের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়াকে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হলে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক প্রচেষ্টা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
জলবায়ু অ্যাকশন নেটওয়ার্কের শ্রীশান ভেঙ্কটেশ এই ব্যর্থতায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি যত দ্রুত সম্ভব আইপিসিসির আলোচনা পুনরায় আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে কম দায়ী মানুষরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে।
আইপিসিসির চেয়ারম্যান জিম স্কিয়া এই অচলাবস্থা নিরসনের আহ্বান জানিয়ে এর প্রাতিষ্ঠানিক গুরুত্ব সম্পর্কে সতর্ক করেছেন। সাধারণত প্রতি পাঁচ থেকে সাত বছর পর প্রকাশিত হওয়া এই সংস্থার ষষ্ঠ মূল্যায়ন প্রতিবেদনটি সর্বশেষ ২০২১ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।