উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির ওরফে আলিফ ফকির হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান সন্দেহভাজন অপূর্বকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে দুর্গাপুর বাজারের পুরোনো সিনেমা হলের পাশ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তার অপূর্বের বয়স ২২ বছর। তিনি দুর্গাপুর পৌর শহরের উকিলপাড়া এলাকার শমসের আলীর ছেলে। পুলিশ জানায়, তালিকাভুক্ত আসামি হওয়ায় তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। শনিবার রাতে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপূর্বর কাছ থেকে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সরাসরি পাঁচ থেকে ছয়জন জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের পেছনে অর্থদাতা ও মদদদাতাসহ আরও একটি বড় চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ আরও জানায়, এর আগে নেত্রকোনায় এক পুলিশ সদস্য হত্যা মামলায় অপূর্ব ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছিলেন। পুলিশের দাবি, সাংবাদিক আলিফকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলাকারীরা তাঁর চেহারার সঙ্গে মিল থাকায় ভুলবশত এক পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছিল। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সোয়া ৮টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের উৎরাইল এলাকার তেলুনজিয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়ির কাছের একটি দোকানের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক আলিফ ফকির। তাঁর শরীরে ছয়টি গুলির ক্ষত পাওয়া যায়। তিনি সাবেক সেনাসদস্য ছিলেন এবং ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন।
এ ঘটনায় আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় সাত থেকে আটজনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটির তদন্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সমন্বিত দল কাজ করছে।