উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ইসলামি জীবনদর্শনে অসুস্থতাকে শুধু শারীরিক যন্ত্রণা হিসেবে দেখা হয় না, বরং একে জীবনের এক বিশেষ পরীক্ষা এবং পাপমোচনের মাধ্যম হিসেবে গণ্য করা হয়। ইসলামে চিকিৎসকের সহায়তা নেওয়ার পাশাপাশি আল্লাহর দরবারে মোনাজাত ও দোয়ার মাধ্যমে আরোগ্য প্রার্থনা করার সুন্দর সমন্বয় করতে বলা হয়েছে। সাহাবিরা নবীজিকে জিজ্ঞেস করেছিলেন আমরা কি অসুস্থ হলে চিকিৎসা গ্রহণ করব, তখন তিনি উত্তর দিয়েছিলেন যে মহান আল্লাহ এমন কোনো রোগ পাঠাননি যার প্রতিষেধক তিনি সৃষ্টি করেননি।
কোরআনের প্রথমে উল্লেখিত সুরা ফাতিহার আরেকটি নাম হলো আশ-শাফিয়া বা আরোগ্যকারী সুরা এবং যেকোনো শারীরিক অসুস্থতার সময়ে এটি পাঠ করে ফুঁ দেওয়া হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। সাহাবি আবু সাইদ খুদরি সুরা ফাতিহা পাঠ করে বিষাক্ত বিচ্ছু কামড়ানো এক ব্যক্তিকে সুস্থ করেছিলেন এবং নবীজি ঘটনা শুনে তা সমর্থন করেছিলেন। রোগাক্রান্ত ব্যক্তি নিজে কিংবা তাঁর প্রিয়জন পূর্ণ বিশ্বাসের সঙ্গে সাতবার সুরা ফাতিহা পাঠ করে ব্যথার স্থানে ফুঁ দিতে পারেন যা অন্তরে ইমানি শক্তি জোগায়।
অসুস্থতার সময় হাদিসের শেখানো দোয়া পাঠ করার তাগিদ দিয়ে রাসুল বলেছেন লা বা’সা ত্বহুরুন ইন শা-আল্লাহ যার অর্থ হলো কোনো ক্ষতি নেই, আল্লাহর ইচ্ছায় এটি পবিত্রতার মাধ্যম। সাহাবি ওসমান ইবনে আবিল আস শরীরে তীব্র ব্যথার অভিযোগ নিয়ে এলে নবীজি তাঁকে শরীরের ব্যথার স্থানে ডান হাত রেখে তিনবার বিসমিল্লাহ ও সাতবার নির্দিষ্ট দোয়া পাঠ করতে নির্দেশ দেন। ওষুধের কাজ হলো শরীরের জৈবিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা এবং দোয়ার কাজ হলো আত্মার ভেতরের শক্তিকে জাগ্রت করা।
আল্লাহর দরবারে দোয়া কবুল হওয়ার জন্য মোনাজাত শুরুর আগে আল্লাহর প্রশংসা ও দরুদ শরিফ পাঠ করা এবং শেষের দিকেও একইভাবে সমাপ্তি টানা জরুরি। দোয়ার পাশাপাশি নিজের ভাষায় আল্লাহর কাছে রোগমুক্তির জন্য প্রার্থনা জানানো এবং চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ নিয়মিত খাওয়া ও প্রচুর পানি পান করা আবশ্যক। দোয়া ও সঠিক চিকিৎসা যখন একত্র হয়, তখন আল্লাহর হুকুমেই পূর্ণ আরোগ্য অর্জিত হয়।