উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ইসলামি সমাজে একজন মানুষের সবচেয়ে কাছের মানুষ হলেন তাঁর প্রতিবেশী। প্রতিবেশীর অধিকারের ক্ষেত্রে ইসলামে মুসলিম ও অমুসলিমের মধ্যে মৌলিক কোনো ভেদাভেদ করা হয়নি। কোরআন ও হাদিসের আলোকে অমুসলিম প্রতিবেশীর সঙ্গে সুন্দর ও মানবিক আচরণের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইসলামে প্রতিবেশীর গুরুত্ব তুলে ধরে নবীজি বলেছেন, জিবরাইল (আ.) তাঁকে প্রতিবেশী সম্পর্কে এত বেশি তাগিদ দিচ্ছিলেন যে তাঁর মনে হয়েছিল প্রতিবেশীকে উত্তরাধিকারী বানিয়ে দেওয়া হবে। ইসলামি আইনজ্ঞদের মতে, অমুসলিম প্রতিবেশীরও প্রতিবেশিত্বের নিশ্চিত অধিকার রয়েছে। এমনকি মদিনায় নবীজিকে সহযোগিতাকারী এক ইহুদি কিশোর অসুস্থ হলে তিনি নিজে গিয়ে তার খোঁজখবর নেন।
পবিত্র কোরআনের সুরা নিসার ৩৬ নম্বর আয়াতে পিতা-মাতা ও আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি নিকট ও দূর প্রতিবেশীর সঙ্গে সদ্ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাফসির বিশারদদের মতে, এই আয়াতে দূর প্রতিবেশী বলতে অমুসলিম প্রতিবেশীকে বোঝানো হয়েছে। ফলে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে প্রতিবেশীর সঙ্গে উত্তম আচরণ করা প্রতিটি মুমিনের ধর্মীয় দায়িত্ব।
সাহাবিদের জীবনেও অমুসলিম প্রতিবেশীদের সঙ্গে খাবার ও উপহার ভাগাভাগির নজির রয়েছে। সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে আমরের বাড়িতে বকরি জবাইয়ের পর ইহুদি প্রতিবেশীকে গোশত দেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে তিনি বারবার খোঁজ নিয়েছিলেন। সংকটে অমুসলিম প্রতিবেশীর পাশে দাঁড়ানো এবং অসুস্থতায় দেখতে যাওয়াও ইসলামের অন্যতম প্রধান শিষ্টাচার।
হাদিসে স্পষ্টভাবে সতর্ক করা হয়েছে, যাঁর অনিষ্ট থেকে প্রতিবেশী নিরাপদ নয়, তিনি জান্নাতে প্রবেশ করবেন না। মুসলিম বা অমুসলিম—কাউকেই শারীরিক, মানসিক বা সামাজিকভাবে কষ্ট দেওয়া যাবে না। বরং অমুসলিম প্রতিবেশীর প্রাণ, সম্পদ ও সম্মানের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ইসলামের মূল নীতি।