উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
অস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযان চালানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনার মুখে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ইশরাক হোসেন। সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পদত্যাগের ঘোষণা দেন। ৮ মাসের ব্যবধানে বিএনপি সরকারের ৪ জন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের বিদায়ের ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক জানান, গত ১৭ অক্টোবর রাজধানীর গেণ্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় নিজের নিরাপত্তার প্রয়োজনে তিনি বৈধ অস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন। এ ঘটনায় দলের বা সরকারের কারো ক্ষতি হয়ে থাকলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন তবে নিজের পদক্ষেপে কোনো ভুল ছিল না বলে দাবি করেন। মাদকবিরোধী লড়াই দীর্ঘমেয়াদি উল্লেখ করে তিনি তা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন এবং স্থানীয় সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
এর আগে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন নিজ পদ থেকে সরে দাঁড়ান। এছাড়া মিরপুরের একটি কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকেও পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, সরকারের কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন এবং মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থী কাজ করলে প্রধানমন্ত্রী সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেবেন।
ইশরাক জানান, অভিযানের বিষয় নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর তিনি নিজে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে মাদকবিরোধী কার্যক্রম ও এলাকার সমস্যা সমাধানের কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি গেণ্ডারিয়া এলাকার মাদক সমস্যা, পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের প্রস্তাব এবং অভিযানের সময় উদ্ধার করা বিভিন্ন মাদকের বিবরণ তুলে ধরেন। শৃঙ্খলার স্বার্থে তিনি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন বলে জানান।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে ইশরাকের কর্মী-সমর্থকদের স্লোগান ও অবস্থানকে কেন্দ্র করে কিছু সময় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তিনি আরও জানান, অভিযানের সময় ২৫ থেকে ৩০ জনের একটি দল দেখলে আত্মরক্ষার জন্য তিনি লাইসেন্স করা অস্ত্র হাতে নেন এবং পরে তা পকেটে রেখে দেন। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ওই এলাকায় মাদক নির্মূলের এই অভিযান চালানো হয়েছিল বলে তিনি সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেন।