উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
পাথেয় ভালো কথা বলতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে এমন কথা বলা বোঝায়, যা শুনে সে প্রশান্তি লাভ করে এবং যার মাধ্যমে তার অন্তরে ইতিবাচক প্রতিক्रিয়ার সৃষ্টি হয়। সমাজে শান্তি, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধিতে এবং একটি সুখ–সমৃদ্ধ সমাজ গঠনে পারস্পরিক ভালো কথা ও মধুর ভাষা প্রয়োগের কোনো বিকল্প নেই। ইসলামে ভালো কথাকে ‘কালিমাতুত তাইয়্যিবাহ’ বলা হয়েছে এবং মহান আল্লাহ মানুষকে সুন্দর কথা বলার নির্দেশ দিয়েছেন।
ভালো কথার প্রথম সুফল হলো এর দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণ, যার দৃষ্টান্ত একটি ভালো গাছের মতো যার মূল সুদৃঢ় এবং শাখা-প্রশাখা আকাশে বিস্তৃত। দ্বিতীয়ত, ভালো কথা বা মধুর ভাষা মানুষকে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ করে এবং চরম শত্রুকেও পরম বন্ধুতে পরিণত করা সম্ভব। তৃতীয়ত, মহানবী (সা.) প্রতিটি ভালো কথাকে সদকা হিসেবে অভিহিত করেছেন, যা দান করার সামর্থ্য না থাকলে দানের বিকল্প হিসেবে কাজ করে।
চতুর্থ সুফল হিসেবে মধুর ভাষা বেহেশত পাওয়ার অন্যতম চাবিকাঠি এবং মানুষকে খাবার খাওয়ানো ও মধুর ভাষা ব্যবহার করা বেহেশত লাভ নিশ্চিত করে। পঞ্চমটি হলো মন জয়ের হাতিয়ার, কারণ মহানবী (সা.) মিষ্টভাষী না হলে তাঁর মিশনে সফল হতে পারতেন না এবং কর্কশভাষী হলে মানুষ সরে যেত। ষষ্ঠত, কারো প্রয়োজন পূরণ করা সম্ভব না হলেও তার সঙ্গে ভালো ও নম্র কথা বলা উচিত, এতে সে মনে প্রশান্তি লাভ করে।
ফেরাউনের মতো জালেমের কাছে পাঠানোর সময়ও আল্লাহ–তাআলা নবী মুসা ও হারুন (আ.)–কে নরম ভাষা প্রয়োগ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। যারা মানুষের দোষত্রুটি খুঁজে বেড়ায়, কথায় কথায় অভিসম্পাত করে এবং অশ্লীল ও নির্লজ্জ কথাবার্তা বলে, তারা প্রকৃত মুমিন হতে পারে না। তাই কোরআন ও হাদিসে বিভিন্নভাবে ভালো কথার প্রতি মানুষকে উৎসাহিত করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে পরকালীন সওয়াবের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।