উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে নীলফামারী জেলায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব শেষ হয়েছে। বুধবার সকালে মহা-দশমীর পূজা-অর্চনা ও বিহিত পূজা শেষে মণ্ডপে মণ্ডপে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন ভক্তরা। এর মাধ্যমে ধরা থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় জানানো হয় দেবী দুর্গাকে।
নীলফামারী কেন্দ্রীয় কালিবাড়ি মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার সাহা জানান, সকালে মহা-দশমীর অঞ্জলি শেষে সকাল নয়টার মধ্যে বিসর্জনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এরপর দেবীর বিদায় উপলক্ষে ভক্তরা মেতে ওঠেন সিঁদুর খেলায়। কমিটির সভাপতি অক্ষয় কুমার রায় ও শিবমন্দির পূজা কমিটির আহ্বায়ক পরিতোষ রায় জানান, প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তার কারণে ভক্তরা নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিটি মণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন।
পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁন জানান, জেলার ৮৬৮টি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ পূজা উদযাপনে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। প্রতিটি মণ্ডপে পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন এবং নিয়মিত পরিদর্শন নিশ্চিত করায় মণ্ডপগুলোতে ভক্তদের ব্যাপক ভিড় ছিল। প্রতিমা বিসর্জনের সময়ও সার্বিক পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখতে কঠোর নজরদারি রাখা হয়।
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৩ (এসআরবি) রংপুরের অধিনায়ক লে. কর্নেল মনজুর করিম জানান, পূজার নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত এসআরবি সদস্য মোতায়েন ছিল। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম ২২ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। পাশাপাশি প্রতিমা বিসর্জনেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মনোয়ারুল ইসলাম জানান, জেলার ৬টি উপজেলায় ৮৬৮টি মণ্ডপে সরকারিভাবে ৬শ’ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে নীলফামারী সদরে ২৮৫টি, জলঢাকায় ১৮৫টি, কিশোরগঞ্জে ১২৭টি, ডোমারে ১০৫টি, সৈয়দপুরে ৮৮টি এবং ডিমলা উপজেলায় ৭৮টি মণ্ডপ রয়েছে।
এদিকে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন সুদৃঢ় করতে দুঃস্থ মানুষের মাঝে নতুন বস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল পারভেজ। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল ও অ্যাসোসিয়েশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের আহ্বায়ক প্রকৌশলী শাররিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনের সহযোগিতায় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে উৎসবমুখর পরিবেশে এবারের দুর্গোৎসব সম্পন্ন হয়েছে।