উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
অনেক মুসলিম পরিবারে সন্তানের জন্মের শুরু থেকেই জাগতিক প্রস্তুতিতে জোর দেওয়া হলেও ধর্মীয় আমল উপেক্ষিত থেকে যায়। নামাজ, আকিকা বা তাহনিকের মতো বিষয়গুলো এড়িয়ে গিয়ে সন্তানকে শুধু ক্লাসের পড়াশোনা ও প্রতিযোগিতার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। জীবনের মৌলিক ও কৌতূহলী প্রশ্নগুলো ধমক দিয়ে থামিয়ে দেওয়ায় শিশুর ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত শুরু থেকেই দুর্বল থেকে যায়।
পরবর্তী সময়ে পরিবার থেকে দূরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গিয়ে তরুণরা সম্পূর্ণ নতুন এক সংস্কৃতির মুখোমুখি হয়। অবাধ মেলামেশা ও ভোগবাদী জীবনযাত্রার ভিড়ে দুর্বল ইমানের কারণে হালাল-হারাম মেনে চলা বা নামাজ আদায় তাদের কাছে এক বিরাট মানসিক বোঝা মনে হতে থাকে। সহপাঠীদের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া ও জনপ্রিয় হওয়ার তাগিদে অনেকেই ধর্মীয় পরিচয়কে অগ্রগতির অন্তরায় ভেবে ধর্ম থেকে দূরে সরে যেতে চায়।
জীবনের প্রথম দশ বছরে ধর্মীয় মৌলিক স্তম্ভগুলোর সঠিক শিক্ষা না পেলে সন্তান শুধু প্রথাগত বা ‘সাংস্কৃতিক মুসলিম’ হিসেবে বেড়ে ওঠে। পবিত্র কোরআনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ‘হে ইমানদারগণ, তোমরা নিজেদের এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে রক্ষা করো জাহান্নামের আগুন থেকে।’ (সুরা তাহরিম, আয়াত: ৬)। অথচ সমাজে সন্তানদের পার্থিব শিক্ষার জন্য প্রচুর সময় ও অর্থ ব্যয় করা হলেও কোরআনের গভীর অর্থ ও জীবনবোধ শেখানো অবহেলিত থাকে।
আধুনিক বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অমুসলিম দেশগুলোর অগ্রগতি এবং মুসলিম বিশ্বের অস্থিরতাও তরুণদের মনে নানা ক্ষোভ ও প্রশ্নের জন্ম দেয়। ফলে বৈষয়িক ক্ষমতা ও সম্পদের মোহে তারা ধর্মীয় অনুশাসন ত্যাগ করাকেই সফলতার সহজ পথ মনে করে। বন্ধুদের সমর্থন ও স্বীকৃতি পাওয়ার লড়াইয়ে একা হয়ে পড়ার ভয়ে অনেকে নিজস্ব ধর্মীয় আত্মপরিচয় আড়াল করতে শুরু করে।
হাদিসে মহানবী (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমরা প্রত্যেকেই এক একজন দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ অধীনস্থদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৯৩)। অভিভাবক ও সমাজ যদি আখিরাতের চেয়ে দুনিয়াকেই বড় করে তুলে ধরে, তবে তরুণদের এই বিমুখতা অপ্রত্যাশিত নয়। তাই তাদের আত্মিক সুরক্ষায় চিন্তাধারার পরিবর্তন এনে শৈশব থেকেই নৈতিকতা ও সঠিক জীবনবোধের শিক্ষা দেওয়া প্রয়োজন।