উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ইসলামে হালাল ও হারাম নির্ধারণের একক অধিকার শুধু আল্লাহর এবং গরু খাওয়ার বৈধতা নিয়ে ফকিহদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই। বিদায় হজের সময় মহানবী (সা.) তাঁর স্ত্রীদের পক্ষ থেকে গরু কোরবানি দিয়েছেন বলে সহিহ বুখারির ১৭০৯ নম্বর হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। তাই গরুর মাংসকে হারাম বা নিষিদ্ধ ভাবার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই বললেই চলে।
মাংস হালাল হলেও স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনা করে নবীজির একটি হাদিস রয়েছে যেখানে এর মাংসের চেয়ে দুধ ও মাখন খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আল-মুসতাদরাক আলাস সহিহাইন গ্রন্থের ৮২২৫ নম্বর হাদিসে গরুর মাংসে রোগ এবং দুধে প্রতিষেধক থাকার কথা বলা হয়েছে। নাসিরুদ্দিন আলবানিসহ অনেক মুহাদ্দিস এই হাদিসটিকে গ্রহণযোগ্য বলে মত দিয়েছেন।
হাদিস বিশেষজ্ঞদের মতে এই নির্দেশনার অর্থ গরুর মাংস নিষিদ্ধ হওয়া নয় বরং এটি একটি স্বাস্থ্যগত নির্দেশনা বা তিব্বে নববি। তৎকালীন আরবের উষ্ণ আবহাওয়া এবং শারীরিক পরিশ্রমের ধরন অনুযায়ী অতিরিক্ত গরুর মাংস খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ছিল। ইমাম তিরমিজি ও ইবনুল কাইয়িমের মতে উদ্ভিদের ক্ষতিকর উপাদান মাংসে বেশি জমা হয় এবং এটি হজম করতেও কষ্টকর।
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানও বলছে অতিরিক্ত লাল মাংস হৃদ্রোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৮ সালের প্রতিবেদনেও উঠে এসেছে। হালাল খাবার হলেও তা যদি শরীরের ক্ষতির কারণ হয় তবে পরিহার করাই ইসলামের দাবি। দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসে অতিরিক্ত গরুর মাংস পরিহার করে পরিমিতিবোধ বজায় রাখাই নবীজির বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য।
মহানবী (সা.) সাধারণত দুম্বা বা ছাগলের মাংস বেশি পছন্দ করতেন তবে গরুর মাংসকে পুরোপুরি খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দেননি। সুরা আরাফের ৩১ নম্বর আয়াতে অপচয় ও সীমালঙ্ঘন না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হালাল বস্তু খাওয়া যাবে কিন্তু তা যেন শরীরের ক্ষতির কারণ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখাই মুমিনের কাজ।