উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সংকট সামাল দিতে হিমশিম খাওয়া ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সম্ভবত ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ফ্রান্সের অস্থিরতা নিয়ে রাজনৈতিক সুবিধা পেতে বোকামিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। দোহায় সাংবাদিকদের মাখোঁ বলেন যে কিছু মানুষ ফ্রান্সের ক্ষতিকে কাজে লাগিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন এবং তারা এমন নেতা, যারা নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত— এই অঞ্চলে হোক কিংবা আটলান্টিকের ওপারে। যুক্তরাষ্ট্রে রিপাবলিকান দলের পক্ষে প্রচারণা চালানোর সময় ট্রাম্প ফ্রান্সের অস্থিরতার সঙ্গে অভিবাসী, জিহাদি ও কমিউনিস্টদের যোগসূত্র স্থাপনের চেষ্টা করেছেন এবং মঙ্গলবার তিনি ফ্রান্সের কট্টর ডানপন্থী নেতা মেরিন ল্য পেনেরও প্রশংসা করেন। বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাখোঁর মন্তব্যকে ষড়যন্ত্রমূলক বলে আখ্যা দিয়ে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা কট্টর ডানপন্থী প্রার্থী ল্য পেন বলেন যে গত শনিবার আমরা যে দৃশ্য দেখেছি তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি নয় এবং মাখোঁর ১০ বছরের শাসনের পর ফ্রান্সের বাস্তব অবস্থা এসব দৃশ্যে ফুটে উঠেছে যা একটি দুঃখজনক বাস্তবতা।
ফ্রান্সে আবারও বিক্ষোভের আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার প্যারিসের কয়েকটি এলাকায় সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ এবং প্যারিসে স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে। ফরাসি রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে যার মধ্যে রয়েছে প্রেসিডেন্টের বাসভবন এলিসি প্রাসাদ, পার্লামেন্টের উভয় কক্ষ ও পর্যটকদের আকর্ষণীয় স্থান লুভর জাদুঘর ও শঁজেলিজে সড়ক। এ ছাড়া বাস্তিল ও রিপাবলিক চত্বর এবং শাতলে-লে আল শপিং এলাকাসহ আরও কয়েকটি স্থানে সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে যেখানে গত সপ্তাহের শেষে ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়েছিল। গত সপ্তাহের শেষে মুখোশধারী তরুণদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, দোকানপাটে লুটপাট ও সরকারি ভবনে ভাঙচুরের ঘটনায় সৃষ্ট সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হওয়ার কথা স্বীকার করে ফ্রান্স সরকার বলেছে যে ওই পরিস্থিতিতে তারা নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল। শনিবার জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে দেশজুড়ে পাঁচ লক্ষাধিক মানুষের বিক্ষোভের আড়ালে পড়ে যায় চলমান সহিংসতা এবং এর আগে টানা চার সপ্তাহ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে ফ্রান্সের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়।
গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এই দাঙ্গার পর এবং শনিবার জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে নতুন বিক্ষোভের আগে মাখোঁর সরকার সতর্ক করে বলেছে যে আর কোনো সহিংসতা বরদাশত করা হবে না। প্যারিস ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর লিওঁতে উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিকল্পিত নতুন বিক্ষোভও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বুধবার প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নুর সঙ্গে বৈঠকের পর ফ্রান্সের কট্টরপন্থী শ্রমিক ইউনিয়ন সিজিটির নেতা সোফি বিনে বিক্ষোভের নতুন পর্যায় শুরুর আহ্বান জানান এবং আগামী মাসের শুরুতে ধর্মঘটেরও ডাক দেন তিনি। বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানাঁ বুধবার জানান যে বিক্ষোভ চলাকালে ও পরে আটক হওয়া ২ হাজার ৫০০ জনের মধ্যে ১৭৪ জনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং আরও ৯১৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা করা হয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ফ্রান্সে এই অস্থিরতা আর্থিক বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে এবং দেশটির ক্রমবর্ধমান ঋণ ও বাজেট ঘাটতি নিয়ে আগে থেকেই বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন ছিলেন। বুধবার ফ্রান্সের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের মুনাফার হার ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যায় এবং দেশটির আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে বিনিয়োগকারীরা বেশি মুনাফা দাবি করছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হতে আর ছয় মাস বাকি রয়েছে এবং এর মধ্যে সহিংসতা ফ্রান্সের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ক্ষতি করেছে ও আর্থিক বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। ঢাকা থেকে ২২ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে বাসস এ খবর জানায়। এএফপি প্যারিস থেকে এই সংবাদ পরিবেশন করেছে। বেশ কয়েকজন বিশ্লেষক ফ্রান্সের বিক্ষোভের জন্য অভিবাসীদের দায়ী করার দাবি নাকচ করেছেন। এ ছাড়া ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ফরাসি রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। ল্য পেন ও মাখোঁর মধ্যকার রাজনৈতিক লড়াই এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচিত হচ্ছে। ফ্রান্সের সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে এক জটিল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করলেও জনমনে স্বস্তি ফিরছে না। আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।