উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
আজ ২১ অক্টোবর পালিত হচ্ছে জাতীয় আপেল দিবস বা অ্যাপল ডে। পরিবেশ ও স্থানীয় ঐতিহ্য নিয়ে কাজ করা দাতব্য সংস্থা কমন গ্রাউন্ড ১৯৯০ সালে যুক্তরাজ্যে প্রথম এই দিবসটি চালু করে। লন্ডনের কোভেন্ট গার্ডেনের পুরোনো অ্যাপল মার্কেটে অনুষ্ঠিত প্রথম আয়োজনে প্রায় ৪০টি স্টলে বিভিন্ন জাতের আপেল ও নানা পণ্য প্রদর্শিত হয়। যুক্তরাজ্যে ঐতিহ্যবাহী ফলের বাগান কমে যাওয়া এবং স্থানীয় আপেলের অনেক জাতের পরিচিতি হারিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে দিবসটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
বিশ্বে আপেলের ৭ হাজার ৫০০টিরও বেশি জাত রয়েছে এবং জাতভেদে এগুলোর স্বাদ, রং, আকার ও ব্যবহারে পার্থক্য দেখা যায়। আপেলের ভেتরের প্রায় ২৫ শতাংশ জায়গা বাতাসে পূর্ণ থাকায় এর ঘনত্ব পানির তুলনায় কম হয় এবং এটি পানিতে ভেসে থাকে। উদ্ভিদবিজ্ঞানে আপেল ও গোলাপ একই পরিবারের সদস্য, যার নাম রোজেসি। গৃহপালিত আপেলের উৎপত্তির ইতিহাস মধ্য এশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত এবং কাজাখস্তান অঞ্চলে পাওয়া বুনো আপেলকে আধুনিক আপেলের পূর্বপুরুষ মনে করা হয়।
সরাসরি খাওয়ার পাশাপাশি আপেল দিয়ে জুস, জ্যাম, পাই, কেক, সালাদ ও সাইডার তৈরি করা হয়। আপেল খাদ্যআঁশ, ভিটামিন সি এবং বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস যা হজমে সহায়তা ও হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। তবে সুস্থ থাকতে সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে অন্যান্য ফল ও শাকসবজি খাওয়ার পাশাপাশি আপেল খাওয়ার আগে পরিষ্কার প্রবাহমান পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া জরুরি।
জাতীয় আপেল দিবস একটি ফলকে কেন্দ্র করে পালিত হলেও এর মাধ্যমে আপেলের বৈচিত্র্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়। ফলের বাগান বিভিন্ন পাখি ও কীটপতঙ্গের আবাসস্থল হিসেবে কাজ করায় এই দিবসের মধ্য দিয়ে প্রকৃতি ও কৃষি ঐতিহ্য সংরক্ষণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। অ্যাপল ডে শুধু আপেল খাওয়ার আনন্দ উদ্যাপনের দিন নয়, বরং এটি কৃষি, পরিবেশ, ইতিহাস ও সংস্কৃতির দীর্ঘ সম্পর্কের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।