উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
পাথেয় দাম্পত্যজীবনে কখনো মনোমালিন্য হয়, কখনো একে অন্যের প্রতি ভালো লাগা কমে যায়, আবার কখনো সন্দেহ ও অবিশ্বাস সম্পর্ককে জটিল করে তোলে। এসব পরিস্থিতিতে মানুষের আচরণই নির্ধারণ করে, সম্পর্কটি ভাঙনের দিকে যাবে, নাকি নতুন করে গড়ে উঠবে। দাম্পত্যজীবনের এমন কিছু সমস্যা নিয়ে সাহাবিরাও নবীজি (সা.) কাছে আসতেন এবং তিনি পরিস্থিতি অনুযায়ী তাঁদের দিকনির্দেশনা দিতেন।
জীবিকার তাগید কিংবা অন্য কারণে পরনারীর দিকে দৃষ্টি পড়ার কারণে মনে আগ্রহ তৈরি হলে, যতদ্রুত সম্ভব নিজের স্ত্রীর কাছে ফিরে যাওয়া এবং তাঁকে সময় ও সঙ্গ দেওয়া উচিত। মহানবী (সা.) এই বাস্তবতা সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছেন যে কাউকে ভালো লাগলেই তাঁর পেছনে ছোটা যাবে না, কারণ অন্য নারীর মধ্যে যা রয়েছে, নিজের স্ত্রীর মধ্যে তা-ই রয়েছে। শুধু শরীরী আকর্ষণের জন্য আরেকটি বিয়ে করাকে হাদিসে নিন্দা করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে আল্লাহ এমন নারী ও পুরুষকে পছন্দ করেন না, যারা একের পর এক বিয়ে করে ও তালাক দেয়।
দাম্পত্যজীবনে সঙ্গীর কোনো স্বভাব অপছন্দ হতে পারে, তবে সেই একটি দোষকে কেন্দ্র করে পুরো মানুষটিকে ঘৃণা করা উচিত নয়। নবীজি (সা.) বলেছেন, কোনো ইমানদার পুরুষ যেন কোনো ইমানদার নারীকে ঘৃণা না করে, কারণ সে যদি তার একটি আচরণে অসন্তুষ্ট হয়, তবে অন্য আচরণে সন্তুষ্ট হবে। দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রীকে প্রহার বা গালমন্দ করা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং নবীজি স্পষ্টভাবে বলেছেন যে যে স্ত্রীকে প্রহার করে, সে ভালো মানুষ নয়।
স্বামী বা স্ত্রীর পরকীয়ার অভিযোগ শুনলে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং আবেগের বশে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। সাদ ইবনে উবাদাহ (রা.)-এর প্রশ্নের জবাবে নবীজি (সা.) স্ত্রীকে অন্য কারো সঙ্গে দেখলেও নিজ হাতে তাকে কতল করার অনুমতি দেননি। স্বামী বা স্ত্রীর ব্যাপারে কোনো অভিযোগ শুনলে প্রথমে বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে এবং বিচারিক প্রক্রিয়া ও আইন রক্ষা করে যেকোনো সিদ্ধান্তে যেতে হবে।