উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মায়ের মৃত্যুর পর মক্কায় ফিরে ছোট্ট মুহাম্মদ (সা.) চলে আসেন তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিবের স্নেহতলে। দাদার সাহচর্যে তিনি আশ্রয় পান কাবার ছায়ায় এবং দাদার গৃহ ও কাবার আঙিনাই হয়ে ওঠে তাঁর নিকেতন। আবদুল মুত্তালিব নবীজিকে সার্বক্ষণিক নিজের সঙ্গে রাখতেন এবং তিনি যখন ঘুমাতেন, সেখানে কাউকে প্রবেশ করতে দিতেন না। নিজে কখনো নবীজিকে পাশে ছাড়া ঘুমাতেন না এবং ঘর থেকে নবীজিকে ছাড়া বের হতেন না।
নবীজির বয়স যখন আট বছর দুই মাস দশ দিন, তখন তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিব ইন্তেকাল করেন। এই দুঃখ-শোকের মুহূর্তে বেদনার বোঝা লাঘব করতে এগিয়ে আসেন চাচা আবু তালিব এবং আপন কাঁধে তুলে নেন তাঁর লালন-পালনের সব দায়িত্ব। বৃদ্ধ আবদুল মুত্তালিব মৃত্যুর আগে আবু তালিবকেই সেই ওসিয়ত করে গিয়েছিলেন।
চাচার সঙ্গে নবীজির জীবনের স্মৃতি অগণিত হলেও কিশোর বয়সের একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মক্কায় একবার দুর্ভিক্ষের সময় আবু তালিব বালক মুহাম্মদকে সঙ্গে নিয়ে কাবাগৃহের নিকট যান এবং তাঁর পিঠ কাবার দেয়ালে লাগিয়ে বৃষ্টির জন্য দোয়া করেন। মুহূর্তের মধ্যে আকাশ মেঘে ছেয়ে যায় এবং মুষলধারে বৃষ্টিপাত শুরু হয়ে উপত্যকায় প্লাবনের সৃষ্টি হয়।
নবীজি (সা.) মদিনায় গিয়ে অনাবৃষ্টির সময় জুমার খুতবায় মিম্বরে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি প্রার্থনা করেছেন এবং সেই বৃষ্টিতে মদিনা সিক্ত হয়েছে। সেই স্মৃতিচারণ করে নবীজি বলেছেন, যদি আজ আবু তালিব বেঁচে থাকতেন, তবে তাঁর দুটি চোখ শীতল হয়ে যেত। তখন আলী (রা.) দাঁড়িয়ে আবু তালিবের সেই বিখ্যাত কবিতা আবৃত্তি করেন যেখানে নবীজির চেহারা মোবারক দ্বারা রহমতের বৃষ্টি অন্বেষণের কথা বলা হয়েছে।