উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
শিল্পকারখানার বায়ুদূষণের কারণে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্র দীর্ঘমেয়াদি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বায়ুদূষণ সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য ক্রমেই নষ্ট করছে, যার ফলে উদ্ভিদের শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং বনটির প্রতিকূলতা মোকাবিলার সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। বাঘের প্রাকৃতিক আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত এই বনটির অস্তিত্বের জন্য বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনিরুল এইচ খান জানান, বায়ুদূষণ সরাসরি উদ্ভিদের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে এবং শিল্পকারখানার ধুলাবালি পাতার ওপর জমে সালোকসংশ্লেষণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। সিইজিআইএসের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা এ খান উল্লেখ করেন, সিমেন্ট কারখানার ক্লিংকার প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় নির্গত পিএম১০ ও পিএম২.৫ কণা বাতাসের মাধ্যমে বনাঞ্চলে প্রবেশ করছে। সুন্দরবনের চারপাশে পরিচালিত উচ্চমাত্রার দূষণকারী কারখানাগুলো দ্রুত সরানো না গেলে এই ম্যানগ্রোভ বন রক্ষা করা অসম্ভব হবে।
সম্প্রতি সিইজিআইএস এবং আরণ্যক ফাউন্ডেশনের যৌথ গবেষণায় সুন্দরবনের বায়ুদূষণের এক উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে, যেখানে বনের বিভিন্ন এলাকায় পিএম২.৫ ও পিএম১০-এর বিপজ্জনক মাত্রা শনাক্ত করা হয়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে খুলনা, সাতক্ষীরা, শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে এই মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, শরণখোলা রেঞ্জে পিএম২.৫-এর ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ১০২ মাইক্রোগ্রাম এবং পিএম১০-এর মাত্রা সর্বোচ্চ ১১৪ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত পৌঁছেছে।
দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চাঁদপাই রেঞ্জে পিএম২.৫-এর ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ৮৯ দশমিক ৩ মাইক্রোগ্রাম এবং পিএম১০-এর ঘনত্ব ৯৮ দশমিক ১ মাইক্রোগ্রাম রেকর্ড করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় গবেষণায় অবিলম্বে দীর্ঘমেয়াদি বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং আবহাওয়াসংক্রান্ত তাৎক্ষণিক তথ্যের সঙ্গে তা সমন্বয়ের সুপারিশ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃত বাংলাদেশ অংশে সুন্দরবনের আয়তন প্রায় ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার এবং এখানে নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণীর বসবাস।