উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সন্তানের অন্তরে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও নৈতিকতার বীজ বপন করা প্রতিটি মুসলিম অভিভাবকের পবিত্র দায়িত্ব। কিন্তু এই বীজ কোথায় এবং কীভাবে বপন করা হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যৎ মহিরুহটি কেমন হবে। সন্তানকে কোনো ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করানোর আগে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়।
তাবেয়ি মুহাম্মদ ইবনে সিরিন (রহ.) বলেছেন, নিশ্চয়ই এই ইলমই হলো ধর্ম; সুতরাং তোমরা লক্ষ করো, কার কাছ থেকে তোমরা তোমাদের ধর্ম গ্রহণ করছ। অভিভাবকের দায়িত্ব হলো সন্তানের জন্য এমন একজন ধার্মিক ও প্রজ্ঞাবান শিক্ষক নির্বাচন করা। যিনি শুধু কিতাবই পড়াবেন না, বরং নিজের সুন্দর চরিত্রের মাধ্যমে সন্তানকে প্রভাবিত করবেন।
পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে খেলার ছলে শেখানোর ব্যবস্থা থাকতে হবে। রাসুল (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, তোমরা সহজ করো, কঠিন কোরো না; সুসংবাদ দাও, দূরে সরিয়ে দিয়ো না। যে প্রতিষ্ঠানে শুধু তোতাপাখির মতো আরবি শব্দ মুখস্থ না করিয়ে শিশুর চরিত্র গঠনে জোর দেওয়া হয়, সেটিই আদর্শ।
ছোট শিশুদের জন্য অনাবাসিক প্রতিষ্ঠান বাছাই করাই ভালো এবং বাসা থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুব বেশি দূরে হওয়া উচিত নয়। দীর্ঘ যানজট ও যাতায়াতের ক্লান্তি অনেক সময় শিশুর পড়াশোনার স্পৃহা নষ্ট করে দেয়। শিক্ষাদানে অতিরিক্ত কঠোরতা ও জবরদস্তি শিশুর স্বতঃস্ফূর্ততা ও সৃজনশীলতা নষ্ট করে দেয়।
পাঁচ বছরের কম বয়সী কোনো শিশু যদি শিক্ষালয়ে যেতে একেবারেই না চায় এবং প্রতিদিন সকালে কান্নাকাটি করে, তবে বুঝতে হবে সেখানে সে স্বস্তি পাচ্ছে না। সমাজবিজ্ঞানী ইবনে খালদুন লিখেছেন, অতিরিক্ত কঠোরতা ও জবরদস্তির ফলে শাস্তির ভয়ে শিশু মিথ্যা বলতে শেখে এবং তার আত্মমর্যাদাবোধ ধ্বংস হয়ে যায়।
যে প্রতিষ্ঠানে শিশুদের ওপর বয়সের তুলনায় অতিরিক্ত সিলেবাস ও আমলের চাপ চাপিয়ে দেওয়া হয়, তা থেকে দূরে থাকুন। হানাফি ফিকহের ফতোয়াগ্রন্থে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে শিশুদের ধারণক্ষমতার বাইরে কোনো চাপ প্রয়োগ করা যাবে না। অতিরিক্ত চাপ শিশুকে ধর্মের প্রতি বীতশ্রদ্ধ করে তোলে।
যেখানে বাহ্যিক ইবাদত নিশ্চিত করতে গিয়ে শিশুদের সঙ্গে রূঢ় আচরণ করা হয়, সেখান থেকে সন্তানকে দূরে রাখা আবশ্যক। রাসুল (সা.) শিশুদের সঙ্গে কখনোই রূঢ় আচরণ করতেন না, বরং তাদের প্রতি সবসময় মমত্ববোধ প্রদর্শন করতেন। ধর্মীয় শিক্ষা দেওয়া মানে শুধু কিছু আরবি শব্দ মুখস্থ করানো নয়, বরং মহান আল্লাহর প্রতি শিশুর অন্তরে ভালোবাসা তৈরি করা।