উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মৌলভীবাজারে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে এখনও ভালো লক্ষণ দেখছি না। বিএনপির একজন অবসরপ্রাপ্ত ক্যাডারকে নির্বাচন কমিশনের এডিশনাল সেক্রেটারি হিসেবে বসানো হয়েছে এবং একজন দলীয় লোককে কেন আনতে হবে এমন প্রশ্ন জনগণের। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ তার এলাকায় গিয়ে বলেছেন যে জায়গায় বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হবে না সেখানে কোনো সরকারি বরাদ্দ দেয়া হবে না, যা অত্যন্ত লজ্জার বিষয়। এরকম ভয়ভীতি এবং দলভীতির মধ্য দিয়ে নির্বাচন হলে নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে আমরা অবশ্যই রাস্তা পরিষ্কার করার চেষ্টা করব এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত চাইব। যখন সেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের নিশ্চয়তা পাব, তখন নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করব কারণ আমরা কারো স্কেপগোট হতে চাই না। আমরা জনগণের অধিকার নিয়ে লড়তে চাই এবং জনগণ যাকে ভোট দিয়ে পছন্দ করবে সেই ক্ষমতায় যাবে বলে তিনি জানান। গতকাল শনিবার সকাল ১১টায় মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসের মুন হল রুমে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আমরা সৌভাগ্যক্রমে একজন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পেয়েছি যিনি সকল মন্ত্রণালয়ে সার্ভিস দেন কিন্তু নিজের মন্ত্রণালয় লুক আফটার করা তার প্রাইম ডিউটি। না তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণ, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ করলেন, না তিনি সমাজে শৃঙ্খলা ফিরাতে পারলেন এবং রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলার দৃশ্যমান কোনো উন্নতি নেই। সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনকারীরা বলেন আইনশৃঙ্খলা আগের চেয়ে ভালো, কিন্তু এই আগের চেয়ে ভালোর মাপকাঠি কী তা আজ পর্যন্ত বুঝতে পারলাম না বলে তিনি জানান।
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে জামায়াত আমীর বলেন, সংবাদপত্র সমাজের আয়না এবং সাংবাদিকদের আয়নায় সমাজের দোষত্রুটি ধরা পড়ে। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ১৯৭৫ সালে সংবাদ মাধ্যমের উপর আক্রমণ হয়েছিল, রাজনীতির উপর আঘাত এসেছিল এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র বাদ দিয়ে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েমের সিদ্ধান্ত নিয়ে ৪টি সংবাদ মাধ্যম ছাড়া আর কোনো সংবাদ মাধ্যমের অস্তিত্ব রাখা হয়নি। গতকাল সকালে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে এসে পৌঁছলে তাকে অভ্যর্থনা জানানো হয় এবং পুলিশের একটি চৌকস দল গার্ড অফ অনার প্রদান করে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজ জেলা শহরে এটি ছিল তার প্রথম সফর।