উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বাগদাদের নিজামিয়া মাদ্রাসার প্রধান অধ্যাপক ইমাম আবু হামিদ আল-গাজালি ৪৮৮ হিজরিতে ক্ষমতার শিখর ছেড়ে নিঃশব্দে বাগদাদ ত্যাগ করেন। অগাধ পাণ্ডিত্য ও রাজকীয় সম্মান থাকা সত্ত্বেও তিনি এক গভীর অস্তিত্বসংকটে পড়েন এবং বুঝতে পারেন তাঁর বাগ্মিতার পেছনে খ্যাতির মোহ কাজ করছে। এরপর দামেস্ক, জেরুজালেম ও মক্কায় প্রায় এক দশক তিনি কৃচ্ছ্রসাধন ও আত্মমগ্নতায় কাটান। দীর্ঘ ১১ বছর পর ৪৯৯ হিজরিতে তিনি কেন আবার নিশাপুরের ভরা ক্লাসরুমে ফিরে এলেন, তার আত্মজৈবনিক কারণ রয়েছে তাঁর আল-মুনকিজ মিনাদ দলাল বইতে।
দীর্ঘ সাধনার পর গাজালি উপলব্ধি করেন মানুষের আসল পরিচয় রক্ত-মাংসের দেহে নয়, বরং অন্তরে যা খোদা-পরিচিতির কেন্দ্রস্থল। অন্তরের রোগ দূর করতে নবীগণ হলেন আত্মিক ব্যাধির চিকিৎসক এবং বুদ্ধি নবুওয়তের সত্যতাকে স্বীকার করে। সমাজ ও মানুষের ইমানের অবক্ষয় দেখে তিনি বিশ্বাসহীনতার পেছনে দার্শনিকদের সংশয়বাদ, ভণ্ড সুফিদের প্রবণতা, বাতেনি সম্প্রদায়ের বিভ্রান্তি এবং আলেম সমাজের নৈতিক স্খলনকে চিহ্নিত করেন। যখন মহামারী সমাজে রূপ নেয় এবং চিকিৎসকেরাও অসুস্থ হয়, তখন নির্জনবাসে দিন কাটানোর সার্থকতা থাকে না বলে তিনি অনুভব করেন।
সেলজুক উজির ফখরুল মুলকের রাষ্ট্রীয় নির্দেশ এবং নিজের আরাম ও নিঃসঙ্গতার প্রশান্তি ত্যাগের তাগিদে তিনি নিশাপুরের নিজামিয়া মাদ্রাসায় দরস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি উপলব্ধি করেন যে সমাজে কুযুক্তি ও অধঃপতনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোই প্রকৃত ইমান। গাজালি নিশাপুরে ফিরলেও আগের মতো পদমর্যাদা অর্জনের জন্য জ্ঞান প্রচার করেননি, বরং মানুষকে জাগতিক পদমর্যাদা ত্যাগের দীক্ষা দিয়েছেন। সমস্ত খ্যাতি ধ্বংস করে অন্যের অন্তরে বিশ্বাসের প্রদীপ জ্বালাতেই তিনি শিক্ষকতায় ফিরে এসেছিলেন। সংঘটিত এই রূপান্তর প্রমাণ করে যে আত্মশুদ্ধি মানুষকে আর্দ্র না করলে সে সাধনা অর্থহীন।