উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
গত কয়েক বছরে নানা কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই করলেও যুক্তরাষ্ট্রের দ্য গান্ড কোম্পানি প্রতিষ্ঠার ৭৫ বছর পরও একজন কর্মীও ছাঁটাই করেনি। ১৯৫১ সালে সাবেক ক্যান্ডি বিক্রেতা এড গান্ডের হাতে গড়া এই পারিবারিক কোম্পানির সাফল্য দেখতে এবং ব্যবসায়িক মডেল শিখতে সেন্ট লুইসে ভিড় জমাচ্ছেন বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নির্বাহী ও সিইওরা। কোম্পানির নেতৃত্বে এখন প্রধান নির্বাহী হিসেবে আছেন ৫৫ বছর বয়সী স্টিভ গান্ড এবং তাঁর বড় ভাই রিচ চেয়ারম্যান ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কর্মী নিয়ে চলা প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক বিক্রয়মূল্য ৪০০ মিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। জেনারেল ইলেকট্রিক এবং রকওয়েল অটোমেশনের মতো প্রধান গ্রাহকদের পরিষেবা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এক দশক ধরে গড়ে বার্ষিক ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। অর্থনৈতিক মন্দার সময় কর্মী ছাঁটাই করার পরিবর্তে, কোম্পানিটি সারা বছর তার কর্মী সংখ্যা কম রাখে এবং ১২ ধাপের ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা অনুসরণ করে।
১৯৫১ সালে সাবেক ক্যান্ডি বিক্রেতা এড গান্ডের হাত ধরে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানে ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে স্টিভ ও রিচ গান্ড যোগ দেন, তখন বার্ষিক বিক্রয় ছিল ২৭ লাখ ডলার। এড গান্ডের বাবা পল গান্ড কর্মী ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন এবং কর্মিসংখ্যা কমানোকে নির্বাহী ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা হিসেবে দেখতেন। ২০০৯ সালে কোম্পানিটি একটি কর্মচারী স্টক মালিকানা পরিকল্পনা চালু করে, যা গত বছর নাগাদ মার্কিন কর্মীদের ৩০ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা প্রদান করে।
অভ্যন্তরীণ পদোন্নতির ওপর জোর দেওয়ায় ৩৩ বছর বয়সী ডেইড্রা জোনাস ১৬ বছর আগে শিক্ষানবিশ পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে শুরু করে এখন মেশিন পরিচালনা ও অভ্যর্থনার কাজ করছেন। ২০০টির বেশি কোম্পানির নেতারা এই কোম্পানির পরিচালনা পদ্ধতি দেখতে কারখানাগুলো ঘুরে দেখছেন এবং ওহাইও-ভিত্তিক ওয়েল্টি এন্টারপ্রাইজেসের প্রধান নির্বাহী ডন টেলর তাঁর ছেলেকে নিয়ে পদ্ধতিগুলো পর্যালোচনা করেছেন। তবে স্টিভ গান্ড উল্লেখ করেছেন যে, সফরকারী খুব কম কোম্পানিই সম্পূর্ণ ১২ ধাপের পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে কৌশলী খরচ ও পরিচালন কাঠামো এবং ব্যবসায়িক চাহিদার তুঙ্গে সময়ে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ না করা। কারখানা পর্যায়ের একজন শিক্ষানবিশ কর্মী ওভারটাইম ও প্রফিট-শেয়ারিং ছাড়া বছরে গড়ে ৫৫ হাজার থেকে ৬৫ হাজার মার্কিন ডলার আয় করেন এবং কোম্পানি ছেড়ে যাওয়ার হার ১০ শতাংশের কম। তবে কর্মীদের ওভারটাইমে অনীহা এবং চীনসহ আন্তর্জাতিক কেন্দ্রে একই কর্মীনীতি বাস্তবায়নের জটিলতার মতো কিছু উদীয়মান চ্যালেঞ্জও দেখা যাচ্ছে।