উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রোববার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে দলটির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ তুলে ধরা হয়। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে দলটির একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে এই বৈঠক করেন।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে রঙিন ও প্রতীক-সম্বলিত পোস্টার ব্যবহার, নির্দিষ্ট সময়ের আগে মাইক ব্যবহার এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সোফা সেট স্থাপন করে প্রচারণার মাধ্যমে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এ ছাড়া হিন্দু ও সরকারি চাকরিজীবী ভোটারদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে সরকারি চিকিৎসকদের ব্যবহার করে ভোটারদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খায়রুল ইসলামের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগ তুলে তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
বিভিন্ন স্থানে হামলা ও হেনস্তার সুনির্দিষ্ট ঘটনা তুলে ধরে জানানো হয়, গত ২২ অক্টোবর পৌরসভার আদর্শ স্কুলের সামনে শিক্ষক আক্কাস আলী জামায়াতের চার নারী কর্মীকে গালিগালাজ ও হেনস্তা করেন। ২৪ অক্টোবর পৌরসভার হাজীপাড়ায় নারী কর্মী সায়মা আক্তারের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেন বিএনপি নেতা ফরহাদ হোসেন এবং ভূল্লী ইউনিয়নে জামায়াত নেতার দোকানের সামনে ব্যারিকেড দিয়ে অতর্কিত হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন। এ ছাড়া রায়পুর ইউনিয়ন ও রুহিয়া উপজেলার আখানগর ইউনিয়নে জামায়াতের প্রচারণায় বাধা দেওয়া এবং ব্যানার কেটে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের কাছে তিনটি প্রধান দাবি জানিয়েছে জামায়াত। দাবিগুলো হলো উত্থাপিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, ভোটকেন্দ্রে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। মিয়া গোলাম পরওয়ার ১৯৯৪ সালের মাগুরা উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন যেন কোনোভাবেই মাগুরা উপনির্বাচনের মতো বিতর্কিত পরিস্থিতির দিকে না যায়। তিনি জানান, জামায়াত এখনো নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।