উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
ধর্ম–দর্শন ‘শরিয়া’ শব্দটি শুনলেই অনেকের মনে হাত কাটা, বেত্রাঘাত বা পাথর ছোড়ার মতো কঠোর শাস্তির চিত্র ভেসে ওঠে। অথচ বিশ্বের শত কোটি মুসলমানের কাছে একই শব্দ নামাজ, রোজা, বিয়ে, উত্তরাধিকার, সৎ ব্যবসা ও ন্যায়বিচারের নৈতিক দিকনির্দেশনার নাম। ফলে শরিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা বিভ্রান্তি, আবেগ ও ভীতি কাজ করে থাকে।
শরি শব্দটি এসেছে ‘শারাআ’ ধাতু থেকে, যার মূল ইঙ্গিত পানির ঘাট বা উৎসের দিকে যাওয়ার সুস্পষ্ট ও স্থায়ী পথের দিকে। পরিভাষায় শরিয়া হলো ওহিনির্ভর সেই নীতিমালা, যা বিশ্বাস, উপাসনা, নৈতিকতা এবং মানুষের পারস্পরিক লেনদেন ও সম্পর্ক নিয়ন্ত্রণ করে। তাই শরিয়াকে শুধু ‘আইন’ বলা এর বিশাল পরিসরকে সংকুচিত করার নামান্তর মাত্র।
ইসলামি ঐতিহ্য অনুযায়ী শরিয়া হলো আল্লাহর নির্দেশনা, আর ফিকহ হলো সেই নির্দেশনা থেকে বিধান বের করে আনার মানবীয় বুদ্ধিবৃত্তিক প্রচেষ্টা। শরিয়ার লক্ষ্য সম্পর্কে ইমাম গাজালি বিধানের মূল উদ্দেশ্য হিসেবে ধর্ম, জীবন, বুদ্ধি, বংশ ও সম্পদ—এই পাঁচটি বিষয় সংরক্ষণের কথা বলেছেন। আধুনিক গবেষক জাসের আউদা এই ধারণাকে বিস্তৃত করে মানবমর্যাদা, ন্যায়বিচার ও উন্নয়নকেও এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
শরিয়া-ভীতির উৎস মূলত খণ্ডিত উপস্থাপন, গোষ্ঠী কেন্দ্রিক অপপ্রয়োগ, অসংকলিত আইন এবং মানবাধিকার কাঠামোর সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে টানাপোড়েনের কারণে তৈরি হয়েছে। গণমাধ্যমে শরিয়ার আলোচনা প্রায়ই শুধু হুদুদের শাস্তির খবরে সীমাবদ্ধ থাকে, ফলে ইবাদত ও লেনদেনের বিশাল অংশ আড়ালে থেকে যায়। তবে শরিয়ার সঠিক জ্ঞান ও উদ্দেশ্য অনুধাবন করলে এর প্রকৃত রূপ স্পষ্ট হয়।