উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
অনেকেই ধর্মের সব অনুশাসন মেনে চলার পরও জীবনে বড় কোনো সাফল্য না আসায় হতাশ হয়ে পড়েন। কোরআন হিফজ করার চেষ্টা, সৎ ব্যবসা কিংবা সন্তানকে কাছে না পাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে অন্তরে কষ্টের সৃষ্টি হয়। অথচ আশপাশের ধর্মীয় বিধানহীন মানুষের সফলতার দেখে এই মানসিক যন্ত্রণা আরও বেড়ে যায়। ইসলামি জীবনদর্শনের দৃষ্টিতে এই না পাওয়ার পেছনে মহান আল্লাহর কোনো রহস্য লুকিয়ে আছে কি না, তা জানা জরুরি।
না পাওয়ার অর্থ এই নয় যে আল্লাহ আমাদের প্রার্থনা শুনছেন না, বরং এর মধ্যে বরকত নিহিত থাকে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ ঘোষণা করেছেন যে কোনো বিষয়কে অপছন্দ করলেও তা কল্যাণকর হতে পারে। ব্যবসার ক্ষেত্রে শুরুতেই অভাবনীয় সফলতা না পেলে যে মানসিক পরিপক্বতা আসত, তা না পাওয়ার অনেক উদাহরণ রয়েছে। ইবনে আতাউল্লাহ আল-ইস্কান্দারি লিখেছেন যে কখনো কখনো আল্লাহ না দেওয়ার আড়ালে দান করেন।
কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়া হতাশার কারণ নয়, বরং ভেتরের ঘাটতি খুঁজে বের করার আহ্বান। ওহুদের যুদ্ধে সাহাবিদের বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের দেখতে হবে কোনো সূক্ষ্ম পাপ বরকত রুদ্ধ করছে কি না। বন্ধ দুয়ার উন্মুক্ত করতে নিয়মিত ক্ষমা প্রার্থনা বা ইস্তিগফার করা অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম। সুরা নুহ-এ ক্ষমা প্রার্থনা করলে সম্পদ ও সন্তানসন্ততিতে সমৃদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে।
আমল ও দোয়ার পাশাপাশি কাজের পদ্ধতিতে কোনো ভুল আছে কি না, তাও কৌশলগতভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। পৃথিবীর ক্ষণস্থায়ী জীবনের প্রতি মোহ এড়াতেই আল্লাহ আমাদের চাওয়া তাৎক্ষণিকভাবে পূরণ করেন না। ইসলাম আমাদের কঠোর পরিশ্রম ও সেরা প্রস্তুতি শেখালেও ফলাফলের মায়াজাল থেকে মন মুক্ত রাখতে বলে। আল্লাহ নিয়তের হিসাব নেবেন, তাই ফল পেতে দেরি হলেও আল্লাহর ওপর আস্থা রেখে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।