উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থেকে সম্পত্তির লোভে অপহৃত মানসিক ভারসাম্যহীন মো. নূর আলমকে (৫৭) রাজধানী ঢাকার মিরপুর থেকে সফলভাবে উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এই চাঞ্চল্যকর অপহরণের পেছনে ভিকটিমের ভাতিজাদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) পিবিআই, সিরাজগঞ্জ জেলা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করেছে, যা জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
মামলার বিবরণ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম মো. নূর আলম দীর্ঘকাল ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন। তার এই শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার কারণে তার পৈতৃক সম্পত্তির দেখাশোনা এবং তার ব্যক্তিগত তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তার ছোট ভাই মো. আব্দুস সালাম। অভিযোগ উঠেছে, ভিকটিমের বিশাল সম্পত্তি আত্মসাৎ করার অসৎ উদ্দেশ্যেই তার দুই ভাতিজা, ১নং বিবাদী মো. মাসুদ হাসান রাশেদ ও ২নং বিবাদী মো. আরিফুল হাসান জিম, এই জঘন্য অপরাধের পরিকল্পনা করে। তারা আরও ২-৩ জন অজ্ঞাতনামা সহযোগীর মাধ্যমে এই অপকর্মটি সংঘটিত করে।
অপহৃত নূর আলমকে তার নিজ বসতবাড়ি, যা সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর থানাধীন এনায়েতপুর গ্রামে অবস্থিত, সেখান থেকে জোরপূর্বক অপহরণ করা হয়। এরপর তাকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে তার নামে থাকা সম্পত্তি নিজেদের নামে লিখে দেওয়ার জন্য অমানবিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছিল। মানসিক ভারসাম্যহীন একজন ব্যক্তিকে এমন জঘন্য উপায়ে আটকে রেখে তার সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা সমাজে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
ভিকটিমকে উদ্ধারের জন্য প্রথমত বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। আদালত একাধিক সার্চ ওয়ারেন্ট জারি করলেও, অপহরণকারীরা এতটাই ধূর্ততার পরিচয় দেয় যে, ভিকটিমকে খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে বিজ্ঞ আদালতে মূল অপহরণ মামলাটি দায়ের করা হয়। আদালত প্রথমে জেলা গোয়েন্দা সংস্থাকে (ডিবি) এই মামলার তদন্ত ও উদ্ধারের নির্দেশ দেন। কিন্তু ডিবি পুলিশও এক্ষেত্রে ভিকটিমকে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়। ফলস্বরূপ, আদালতের আদেশে এই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), সিরাজগঞ্জ জেলার ওপর ন্যস্ত করা হয়।
মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর পুলিশ সুপার, পিবিআই, সিরাজগঞ্জ জেলার প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এবং তদন্তকারী কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল দ্রুততার সঙ্গে কাজ শুরু করে। এই দলটি আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিশ্বস্ত সোর্সের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে। তাদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং সুসংগঠিত পরিকল্পনার ফলস্বরূপ, গত ২৬ অক্টোবর ভোর আনুমানিক রাত ২:০০ ঘটিকায় ঢাকার মিরপুর মডেল থানাধীন জোনাকি রোডের ১ ও ২নং বিবাদীর মা রোজিনা বেগমের (স্বামী- মৃত আব্দুর রহমান) ভাড়া বাসা থেকে অপহৃত মো. নূর আলমকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার অভিযানের পর ভিকটিমকে দ্রুত পিবিআই সিরাজগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়, যেখানে তাকে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক পরিচর্যা প্রদান করা হয়।
উদ্ধারের পর ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ভিকটিমের জবানবন্দি গ্রহণের জন্য তাকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়। তবে তার শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতাজনিত কারণে আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করতে পারেননি, যা মামলার তদন্তে একটি বিশেষ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পরিস্থিতি এবং ভিকটিমের সুস্থতার কথা বিবেচনা করে, বিজ্ঞ আদালত পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত মো. নূর আলমকে তার ছোট ভাই এবং মামলার বাদী মো. আব্দুস সালামের (৪৬) জিম্মায় প্রদানের নির্দেশ দেন। এতে ভিকটিম তার পরিবারের তত্ত্বাবধানে নিরাপদে ও চিকিৎসাধীন থাকার সুযোগ পাবেন।
এই চাঞ্চল্যকর অপহরণ মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম বর্তমানে পুরোদমে চলমান রয়েছে বলে পিবিআই জানিয়েছে। তারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং মূল পরিকল্পনাকারী ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বদ্ধপরিকর। সম্পত্তির লোভে এমন অমানবিক ঘটনা সমাজে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে এবং এই মামলার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। পিবিআই-এর এই সফল উদ্ধার অভিযান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা ও পেশাদারিত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।