উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) মেরিন বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। ২০০১ সালে জুনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা এই কর্মকর্তা মাত্র দুই দশকের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির মালিক হয়েছেন বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি এই সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন।
বিআইডব্লিউটিএর একাধিক কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, অফিসের অভ্যন্তরে মো. রবিউল ইসলাম 'মিস্টার ৫%' নামে পরিচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, ছোট আকারের প্রকল্পে ২ শতাংশ এবং বড় প্রকল্পে ৫ শতাংশ কমিশন ছাড়া রবিউল ইসলাম কোনো ফাইল অনুমোদন করেন না। তাদের দাবি, তার এই অলিখিত নিয়ম অনুযায়ী কমিশন ছাড়া কোনো প্রকল্পই এগোয় না, যা সংস্থার কার্যক্রমে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি করেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিআইডব্লিউটিএর বহুল আলোচিত '২০ ড্রেজার প্রকল্প' থেকে অন্তত ২০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে প্রধান প্রকৌশলী রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে। এই প্রকল্প থেকে অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে তিনি ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে। এছাড়া, ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি তার খালাতো ভাইয়ের মালিকানাধীন 'অলি এন্টারপ্রাইজ' নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে নিয়মবহির্ভূতভাবে সংস্থার তালিকাভুক্ত করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, এরপর থেকে এই প্রতিষ্ঠানটি একের পর এক সরকারি কাজ বাগিয়ে নিচ্ছে, যা স্বচ্ছতার নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের মধ্যে রয়েছে রাজধানীতে স্ত্রী ও অন্যান্য আত্মীয়দের নামে একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লট ক্রয়। এছাড়া, ঝিনাইদহ জেলায় তার নামে রয়েছে বিপুল পরিমাণ কৃষি জমি। তার বিলাসবহুল জীবনযাত্রার প্রমাণ হিসেবে একাধিক দামি গাড়ি ব্যবহারের অভিযোগও পাওয়া গেছে। বিভিন্ন ব্যাংকে তার কোটি কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্যও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিভিন্ন ব্যবসায় বেনামে বিনিয়োগ করেছেন এবং তার স্ত্রীর নামে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সম্পদও রয়েছে, যা একজন সরকারি কর্মকর্তার আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে স্থানীয়দের দাবি।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার খাজুরা গ্রামে রবিউল ইসলামের অর্থায়নে নির্মিত 'বায়তুল মামুর জামে মসজিদ' নিয়েও এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাঁচতলা এই মসজিদটি দেখতে একটি বিলাসবহুল প্রাসাদের মতো। গ্রামের সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, একজন সরকারি চাকরিজীবী কীভাবে এত বিশাল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে এমন একটি স্থাপনা নির্মাণ করতে পারেন। এটি তার অবৈধ আয়ের একটি বড় প্রমাণ হিসেবে স্থানীয়রা মনে করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রধান প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) ইতিমধ্যেই একাধিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং কিছু মামলাও চলমান রয়েছে। দুদক এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত চালাচ্ছে।
এদিকে, বিআইডব্লিউটিএর আরেক কর্মকর্তা সুলতান আহমেদ খানের বিরুদ্ধেও অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে দুদক। বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান এই বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, সুলতান আহমেদ খানের বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ এসেছে, সেগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রধান প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তার নীরবতা অভিযোগগুলোকে আরও জোরালো করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।