উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
বাল্যকালে পরিবারের মেষ চরানোর স্মৃতি স্মরণ করে মহানবী (সা.) বলেছিলেন, তিনি ‘জিয়াদ’ নামক স্থানে মেষ চরাতেন। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বর্ণিত মুসনাদে আহমাদের হাদিস অনুযায়ী, উট ও ছাগলের মালিকদের আলোচনার প্রেক্ষিতে রাসুলুল্লাহ (সা.) জানান, নবী মুসা (আ.)-এর মতো তিনিও প্রেরিত হয়েছেন এবং পরিবারের ছাগল চরাতেন জিয়াদে।
সহিহ বুখারির আরেকটি বর্ণনায় এসেছে, আল্লাহ এমন কোনো নবী পাঠাননি যিনি মেষ চরাননি। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও মক্কার ‘কারারিতে’ মেষ চরানোর কথা সাহাবিদের জানিয়েছিলেন। হাদিস গবেষকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ‘কারারিত’ শব্দটি মুদ্রার নাম হওয়ার পাশাপাশি মক্কা-সংলগ্ন ‘জিয়াদ’ স্থানকেও নির্দেশ করে।
হজরত আলী (রা.)-এর সূত্রে জানা যায়, রাখালজীবনে মক্কার উঁচু এলাকায় এক সঙ্গীর দায়িত্বে মেষ রেখে মহানবী (সা.) দুবার তৎকালীন জাহিলি সমাজের বিয়ের গান-বাজনার দিকে গিয়েছিলেন। তবে উভয় ক্ষেত্রেই আল্লাহ তাঁকে ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে রক্ষা করেন এবং তিনি কোনো অন্যায়ে জড়াননি।
পরবর্তী সময়ে কাবা পুনর্নির্মাণের কাজেও মহানবী (সা.) আজয়াদ এলাকা থেকে পাথর বহন করে এনেছিলেন। এ ছাড়া হজরত আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, এই আজয়াদেই রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রথমবার হজরত জিবরাইল (আ.)-কে তাঁর নিজস্ব ছয় শ ডানাবিশিষ্ট পূর্ণ আকৃতিতে প্রত্যক্ষ করেছিলেন।
ইতিহাসবিদদের মতে, উঁচু ও নিচু মক্কার সংযোগস্থলে অবস্থিত আজয়াদের নামকরণ হয়েছে ‘জাইদ’ শব্দ থেকে, যার অর্থ উত্তম। প্রাচীনকালে বনু জুরহুম গোত্র এই চারণভূমিতে তাদের উৎকৃষ্ট ঘোড়া চরাতো বলে স্থানটি ঐতিহাসিকভাবে বিশেষভাবে পরিচিত।