বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

উন্নয়ন ও অবকাঠামো

দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি করে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য ক্রীড়াবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে আগামী দুই মাসের মধ্যে সারাদেশে কমপক্ষে এক হাজার খেলার মাঠ স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে ইউনিয়নভিত্তিক খেলার মাঠ স্থাপন ও ক্রীড়া কার্যক্রম সম্প্রসারণসংক্রান্ত বৈঠকে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো পরে সংশ্লিষ্টরা সাংবাদিকদের জানান।বৈঠকে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রতি দুই থেকে তিনটি ওয়ার্ডের জন্য অন্তত একটি করে খেলার মাঠ নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪০টি এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৯০টি মাঠ খেলাধুলার উপযোগী করে নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে প্রতিটি ইউনিয়নে মাঠ স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মাঠগুলো সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার পাশাপাশি শিশু-কিশোর ও তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।বৈঠকে জানানো হয়, দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে পর্যায়ক্রমে খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ২৭টি জেলায় মাঠ স্থাপনের জন্য ৪০৩টি খাসজমি চিহ্নিত করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিটি মাঠের আয়তন তিন থেকে আট বিঘার মধ্যে রাখা হবে।মাঠগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিয়মিত ক্রীড়া কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রতিটি উপজেলায় একজন করে ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল ও ব্যাডমিন্টনসহ ১০টি খেলায় প্রায় ১৪ লাখ কিশোর-কিশোরীকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা থেকে একযোগে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় এ ক্রীড়া কর্মসূচির উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যমান উপজেলা স্টেডিয়ামগুলো সচল করা, দখল হয়ে যাওয়া খেলার মাঠ উদ্ধার এবং বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত খেলাধুলা ও ক্রীড়া ক্লাবের কার্যক্রম চালুর বিষয়েও বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।দেশের সব খেলার মাঠ সংরক্ষণ, সারা বছর খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম চালু রাখা এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে ক্রীড়াবান্ধব প্রজন্ম গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
🔒