বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

সংস্কৃতি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ধরে রাখতে শিল্পীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণে শিল্পীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ছাত্র-জনতা, শ্রমজীবী মানুষ, দিনমজুরসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এ আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর আয়োজিত দিনব্যাপী ‘বিস্মৃতির বিরুদ্ধে স্মৃতি’ শীর্ষক আর্ট ক্যাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। জাদুঘর প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এবং জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।আর্ট ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ ও আত্মত্যাগের স্মৃতি পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে শিল্পীদের সৃজনশীল কাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শিল্পের মাধ্যমে আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষণ এবং মানুষের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়।প্রধানমন্ত্রীর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের এ আয়োজন প্রচলিত কার্যক্রমের বাইরে শিল্পীদের অংশগ্রহণে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। এখানে চিত্রশিল্পীরা গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে ছবি আঁকছেন। দর্শনার্থীরা শিল্পকর্মগুলো দেখার পাশাপাশি শহীদদের আত্মত্যাগের তাৎপর্য সম্পর্কেও জানতে পারছেন।তিনি জানান, আর্ট ক্যাম্পে তৈরি শিল্পকর্মগুলো জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হবে। তাঁর মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে অন্তর্ভুক্তিমূলক সংস্কৃতিচর্চার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল, এ আয়োজন তা এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ বলেন, বর্তমানে যে স্থানে আর্ট ক্যাম্প হচ্ছে, অতীতে সেখানে স্বৈরাচারী সরকারের কার্যক্রম পরিচালিত হতো। এ কারণে স্থানটিতে শিল্পীদের এমন আয়োজনের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।তিনি আরও বলেন, অতীতে শিল্প ও সাহিত্যকে ব্যবহার করে নাগরিকদের অধিকার ও বাস্তবতা ভুলিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তিনি মনে করেন। কিন্তু ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দেখিয়েছে, নানা প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ইতিহাসকে মুছে ফেলা যায় না। বিস্মৃতির বিপরীতে স্মৃতি ও ইতিহাসকে সামনে তুলে ধরাই এ আর্ট ক্যাম্পের মূল ভাবনা।দিনব্যাপী এই আয়োজনে অংশ নিয়েছেন নাসিম আহমেদ নাদভী, নাইমা হক, সামিয়া আফরিন, জয়তু চাকমা, এ. সেন, ইমাম হোসেন, নাজিয়া আন্দালীব প্রমা, কাজী সালাউদ্দীন আহমেদ, খন্দকার নাছির আহম্মদ, আব্দুল হালিম চঞ্চল, তামান্না লিজা, অমল আকাশ, মোস্তফা জামান, মোস্তাফিজুল হক, ফারজানা আহমেদ উমা, সৈয়দ জাহিদ ইকবাল, ফারিয়া খানম, মো. আরমান চৌধুরী, নাজমুন নাহার পায়া, সুমন হালদার, মোমিন মুক্তার ও জাফরিন গুলশানসহ অনেকে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি ধরে রাখতে শিল্পীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ
🔒