বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

আসিফ আকবরের গাড়িতে গুলিবর্ষণ: জামায়াতের তীব্র নিন্দা ও দ্রুত তদন্তের দাবি

রাজধানীর মগবাজারে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই উদ্বেগজনক ঘটনা দেশের জননিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।শনিবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সিনিয়র প্রচার সহকারী মুজিবুল আলম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। ঘটনার পরপরই দেশের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।বিবৃতিতে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, “রাজধানীর মগবাজারে সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়। দেশের একজন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীর গাড়ি লক্ষ্য করে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এই ঘটনা শুধু আসিফ আকবর নয়, বরং সকল নাগরিকের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, একজন সুপরিচিত ব্যক্তিত্বের ওপর এমন হামলা সমাজে এক ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে, যা রাষ্ট্রের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর।তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নাগরিকদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার জন্য সরাসরি হুমকিস্বরূপ। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ ধরনের অপরাধ দমনে আরও কার্যকর ও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিটি নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব এবং এই দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি কাম্য নয়।” একটি সভ্য সমাজে এ ধরনের হিংসাত্মক কার্যকলাপের কোনো স্থান নেই এবং এর বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা অপরিহার্য বলেও তিনি মনে করেন।অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ঘটনার সাথে জড়িত দুর্বৃত্তদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। তিনি বলেন, “একইসাথে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে উক্ত ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানাচ্ছি।” তিনি আরও যোগ করেন, শুধু অপরাধীদের গ্রেপ্তার করলেই হবে না, বরং ঘটনার মূল উদ্দেশ্য এবং এর নেপথ্যে কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করাও অত্যন্ত জরুরি। কারণ, অনেক সময় এমন ঘটনার পেছনে সুদূরপ্রসারী কোনো উদ্দেশ্য লুকিয়ে থাকতে পারে, যা সমাজের বৃহত্তর ক্ষতি সাধন করতে সক্ষম।জনপ্রিয় এই সংগীতশিল্পী ও সাবেক ক্রিকেট কর্মকর্তা আসিফ আকবরের ওপর এমন হামলা দেশের সংস্কৃতি ও ক্রীড়া অঙ্গনেও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তার মতো একজন পরিচিত ব্যক্তিত্বের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার বোধ আরও তীব্র হতে পারে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত এবং অপরাধীদের কঠোর শাস্তির মাধ্যমে সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতের জন্য একটি খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে, যদি দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হয়। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং নাগরিক জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে আশু পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে মনে করে জামায়াত।

আসিফ আকবরের গাড়িতে গুলিবর্ষণ: জামায়াতের তীব্র নিন্দা ও দ্রুত তদন্তের দাবি
🔒