বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

গাজীপুরে পোশাক কারখানার গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: নিয়ন্ত্রণে ১০ ইউনিট

গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় একটি পোশাক কারখানার গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার ভোরে এ আগুন লাগে, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের দশটি ইউনিট প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে কাজ করে। এতে গুদামে থাকা বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক ও কাঁচামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি, যা স্বস্তির বিষয়।ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার ভোর ৪টার দিকে কোনাবাড়ীর বাইমাইল এলাকার 'এবিসি অ্যাপারেলস লিমিটেড' নামক পোশাক কারখানার গুদামের ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেন স্থানীয়রা। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা পুরো গুদামজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে গাজীপুর, সাভার ও কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রথমে কয়েকটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ শুরু করলেও, আগুনের ব্যাপকতা দেখে পরবর্তীতে আরও ইউনিট যোগ দেয়। মোট দশটি ইউনিট সম্মিলিতভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়।গুদামের ভেতরে দাহ্য পদার্থের মজুত বেশি থাকায় আগুন দ্রুত ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের জন্য আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। ঘন ধোঁয়ার কারণেও তাদের কাজ ব্যাহত হয়। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অবিরাম চেষ্টার পর সকাল ৯টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ডাম্পিংয়ের কাজ শুরু হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গুদামের বিভিন্ন অংশে পানি ছিটিয়ে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ ও শীতল করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, যাতে নতুন করে আগুন জ্বলে উঠতে না পারে।প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, আগুনে গুদামের ভেতরে থাকা কোটি কোটি টাকার তৈরি পোশাক, সুতা, কাপড় এবং অন্যান্য কাঁচামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কারখানার মালিকপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বিপুল। তবে, আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হলো, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও, তদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।ঘটনার সময় গুদামে কোনো শ্রমিক বা কর্মচারী না থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে, ভয়াবহ এই আগুন স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। আশেপাশের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিক ও বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন এবং উৎসুক জনতাকে সরিয়ে দেন।গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন গণমাধ্যমকে জানান, "আগুনের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের ইউনিটগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। গুদামের ভেতরে প্রচুর দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর দশটি ইউনিটের সম্মিলিত চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি বলে মনে হচ্ছে। তবে, আগুনের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত করা হবে।"এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন একটি সময়ে যখন পোশাক খাত আন্তর্জাতিক বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি, তখন এই ধরনের দুর্ঘটনা নিঃসন্দেহে শিল্পের জন্য একটি বড় ধাক্কা। কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন করবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গাজীপুরে পোশাক কারখানার গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: নিয়ন্ত্রণে ১০ ইউনিট
🔒