বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা-চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ বিভ্রাট: ৫ সদস্যের কমিটি গঠন

সম্প্রতি ঢাকা ও চট্টগ্রামের একাংশে আকস্মিক বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের গ্রিড বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি রোধে করণীয় নির্ধারণে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (PGCB)। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে PGCB এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। কমিটিকে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের সঞ্চালন-২ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সৈয়দ এবাদুল্লাহ হায়দার আলী। তাঁর তত্ত্বাবধানে গঠিত এই কমিটি বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মূল কারণ চিহ্নিত করার পাশাপাশি গ্রিড অবকাঠামোর দুর্বলতা, কারিগরি ত্রুটি অথবা মানবসৃষ্ট কোনো অবহেলা ছিল কিনা, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখবে। কমিটির অন্যতম প্রধান কাজ হলো এমন সুপারিশমালা প্রণয়ন করা, যা ভবিষ্যতে জাতীয় গ্রিডে এ ধরনের আকস্মিক বিভ্রাট এড়াতে সহায়ক হবে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করবে।মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৪৩ মিনিটে আকস্মিকভাবে ঢাকার পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা এবং চট্টগ্রামের কিছু অংশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিভ্রাটের ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোতে জনজীবন ও স্বাভাবিক কার্যক্রমে সাময়িক স্থবিরতা নেমে আসে। শিল্প-কারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, এমনকি দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজেও ব্যাপক প্রভাব পড়ে। ঘটনার পরপরই পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের কর্মীরা জাতীয় গ্রিড পুনরুদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। দ্রুততার সাথে কাজ করে একই দিন দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে জাতীয় গ্রিডের পুনরুদ্ধার কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় বলে PGCB’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে গ্রিড লাইন ও গ্রিড উপকেন্দ্রগুলো চালু রেখে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং দ্রুততম সময়ে তা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।জাতীয় গ্রিড দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে। এর স্থিতিশীলতা অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং জনজীবনের স্বাভাবিকতা বজায় রাখার জন্য অপরিহার্য। একটি ক্ষুদ্র গ্রিড বিভ্রাটও বৃহৎ পরিসরে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে শিল্প-কারখানা, হাসপাতাল, তথ্যপ্রযুক্তি খাত এবং জরুরি সেবার ক্ষেত্রে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। তাই এই ধরনের ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত কমিটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের দেওয়া সুপারিশগুলো ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।কমিটির সদস্যরা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারিগরি ও অপারেশনাল দিকগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করবেন। তারা গ্রিডের লোড ম্যানেজমেন্ট, রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়া, সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা মূল্যায়ন করবেন। এছাড়াও, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রিডকে আরও স্থিতিশীল ও নিরাপদ করার জন্য কী ধরনের বিনিয়োগ বা পদ্ধতিগত পরিবর্তন প্রয়োজন, সে বিষয়েও কমিটি বিস্তারিত মতামত দেবে। এই প্রতিবেদনটি বিদ্যুৎ খাতের নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে, যা দেশের বিদ্যুৎ অবকাঠামোকে আরও আধুনিক ও ত্রুটিমুক্ত করতে সাহায্য করবে।পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই তদন্তের মাধ্যমে শুধু তাৎক্ষণিক কারণই নয়, বরং গ্রিডের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলোও চিহ্নিত করা হবে। জনগণের কাছে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার, এবং এই লক্ষ্য অর্জনে গ্রিড বিপর্যয়ের মতো ঘটনাগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মোকাবিলা করা হচ্ছে। আশা করা যায়, পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে জমা পড়া প্রতিবেদনটি বিদ্যুৎ খাতের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও নির্ভরযোগ্য করে তুলবে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ বিভ্রাট: ৫ সদস্যের কমিটি গঠন
🔒