বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

হবিগঞ্জে ভুয়া চিকিৎসক আটক, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় র‌্যাবের অভিযান

হবিগঞ্জ শহরের শায়েস্তানগর ট্রাফিক পয়েন্ট এলাকার মধুমতি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে মো. আরিফ মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে ভুয়া চিকিৎসক সন্দেহে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ দল। গত রবিবার রাতে এই অভিযান পরিচালিত হয়, যা জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। আটক আরিফ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে ‘ডা. মীর মাহবুব রহমান’ পরিচয় দিয়ে হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।অভিযানের সময় আরিফ মিয়া তার চিকিৎসাগত যোগ্যতা বা চিকিৎসাসেবা প্রদানের বৈধতার পক্ষে কোনো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এতে তার ভুয়া পরিচয়ের বিষয়টি নিশ্চিত হয়। জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আল নাদরুন বিন আকন এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। এ সময় র‌্যাবের এসআরবির ক্যাপ্টেন মোশারফসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।ভুয়া চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্য জনস্বাস্থ্য ও জননিরাপত্তার জন্য এক বিরাট হুমকি। দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায়শই এমন প্রতারকদের সন্ধান পাওয়া যায়, যারা উপযুক্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা বা পেশাদারী প্রশিক্ষণ ছাড়াই সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে। এই ধরনের ব্যক্তিরা ভুল চিকিৎসা দিয়ে রোগীর জীবন বিপন্ন করে তোলে এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। হবিগঞ্জের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করলো যে, এমন প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অপরিহার্য।জানা গেছে, মো. আরিফ মিয়া শুধু হবিগঞ্জেই নয়, দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা চেম্বারে নিয়মিত রোগী দেখতেন। তার প্রতারণার জাল বিস্তৃত ছিল, যা সাধারণ রোগীদের জন্য এক মারাত্মক ফাঁদ তৈরি করেছিল। রোগীরা সঠিক চিকিৎসার আশায় তার কাছে যেতেন, কিন্তু কার্যত তারা অনিবন্ধিত ও অযোগ্য একজন ব্যক্তির হাতে নিজেদের জীবন সঁপে দিতেন। এর ফলে রোগের জটিলতা বৃদ্ধি পেত, অনেক সময় তা মারাত্মক পরিণতিও ডেকে আনতো।চিকিৎসা পেশা একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং দায়িত্বশীল ক্ষেত্র। এই পেশায় আসতে হলে কঠোর একাডেমিক প্রশিক্ষণ, ইন্টার্নশিপ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি শুধুমাত্র অর্থ উপার্জনের লোভে এই পবিত্র পেশার অপব্যবহার করে। তারা নকল ডিগ্রি, সনদ বা অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে রোগীদের প্রতারিত করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান এই ধরনের অসাধু কার্যকলাপ বন্ধে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।এই ধরনের অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হলো, সাধারণ মানুষকে ভুয়া চিকিৎসকদের হাত থেকে রক্ষা করা এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। জেলা প্রশাসন ও র‌্যাবের এই যৌথ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন ভুয়া চিকিৎসকদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে সাধারণ মানুষও সচেতন হচ্ছে যে, তারা যেন কোনো চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে তার যোগ্যতা ও বৈধতা যাচাই করে নেন।বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শুধুমাত্র অভিযান চালিয়ে এই সমস্যা পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা। জনসাধারণকে জানতে হবে একজন বৈধ চিকিৎসকের পরিচয় কী, কিভাবে তাদের যোগ্যতা যাচাই করা যায় এবং কোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে কোথায় অভিযোগ জানাতে হবে। সরকার ও বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থা এই বিষয়ে আরও বেশি প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারে।আটকের পর মো. আরিফ মিয়ার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে। এই ধরনের অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে, যা ভবিষ্যতে অন্য অসাধু ব্যক্তিদের এমন কাজ থেকে বিরত রাখতে সহায়ক হবে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, যাতে চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা বজায় থাকে এবং কোনো ভুয়া চিকিৎসক জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে না পারে। হবিগঞ্জের এই ঘটনা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রশাসনের অঙ্গীকারকেই আরও একবার সুদৃঢ় করলো।

হবিগঞ্জে ভুয়া চিকিৎসক আটক, জনস্বাস্থ্য রক্ষায় র‌্যাবের অভিযান
🔒