বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

হবিগঞ্জের হোটেল কক্ষে জেরিন কোম্পানির কর্মীর লাশ উদ্ধার: তদন্ত শুরু

হবিগঞ্জ শহরের একটি হোটেল কক্ষ থেকে বিটিসিএল এর আওতাধীন জেরিন কোম্পানির এক তরুণ কর্মচারীর নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মোঃ সাজ্জাদ হোসেন (২৮) নামের ওই কর্মচারীর লাশ গত শনিবার দিবাগত রাতে সিনেমাহল রোডের হোটেল পলাশ থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘুমন্ত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে, তবে ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ।পুলিশ ও হোটেল সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হোটেল পলাশের ম্যানেজার বোর্ডার রুমে থাকা সাজ্জাদের কক্ষে গিয়ে তাকে ডাকাডাকি করেন। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় খবর দেন।খবর পেয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা কক্ষে প্রবেশ করতে চাইলে ভেতর থেকে কোনো সাড়া না মেলায় এবং দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়। পরে পুলিশের উপস্থিতিতে কক্ষের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয় এবং বিছানার ওপর সাজ্জাদ হোসেনকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়।তাৎক্ষণিকভাবে সাজ্জাদকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যু স্থানীয় প্রশাসন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।নিহত মোঃ সাজ্জাদ হোসেন নওগাঁ জেলার বদলগাছী থানার শর্মাপুর গ্রামের আতোয়ার রহমানের পুত্র। তিনি বিটিসিএল এর আওতাধীন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জেরিন কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন এবং কাজের সূত্রেই হবিগঞ্জে এসে হোটেল পলাশে অবস্থান করছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, সহকর্মী এবং বন্ধুমহলে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক কামাল হোসেন জানান, লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে নিহত সাজ্জাদের শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে যেহেতু এটি একটি অস্বাভাবিক মৃত্যু, তাই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের জন্য ময়নাতদন্ত আবশ্যক। সে লক্ষ্যে লাশ হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে আসার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।সাজ্জাদের মৃত্যুর খবর তার নিজ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে যায়। খবর পেয়ে তার আত্মীয়স্বজন দ্রুত হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দেন এবং রোববার সকালে হবিগঞ্জে এসে পৌঁছান। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাজ্জাদের পূর্বে কোনো গুরুতর অসুস্থতার রেকর্ড ছিল না। তারা তার মৃত্যুর কারণ জানতে চেয়েছেন এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।হোটেল কক্ষে একজন কর্মীর এমন রহস্যজনক মৃত্যুতে হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং কর্মচারীদের স্বাস্থ্যের প্রতি কোম্পানির নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের পাশাপাশি ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে। হোটেল ম্যানেজার ও অন্যান্য কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যদি কোনো অস্বাভাবিকতা বা অন্য কোনো কারণ পরিলক্ষিত হয়, তবে সে অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে থানা সূত্রে জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ নিবিড়ভাবে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

হবিগঞ্জের হোটেল কক্ষে জেরিন কোম্পানির কর্মীর লাশ উদ্ধার: তদন্ত শুরু
🔒